কে আমি

 

চলছে সবাই চলতে হবে      চলায় যেন জীবন ভবে

সামনে চলার নাম কি জীবন!      আছে কি সেথা কি সে ভূবন!

দৃষ্টি সবার সবার দিকে নিজেকে যেন দেখতে মানা

উপর সিড়ি ভাঙতে হবে পায়ের নিচে কেউ দেখেনা।

 

নাও যে কারো ভিড়তে ঘাটে     দেখি নাত এ জগতে।

ঘাটেই যদি না ভেড়ে নাও বাইতে যাব কোন সে মতে।

শেষ যে কোথায় কেউ জানে না        তবু চলছে সবাই যেন থামতে মানা

 

থামলে কেহ কি যে হবে      জীবন ছেড়ে কোথায় যাবে!

যায় না বোঝা না গেলে যে      এপার থেকে ঝাপসা সে যে।

যা দেখা যায় স্বপ্ন শুধু       মরিচিকা বালুর ধুধু।

 

বুঝতে হলে ছুঁতে হবে গেলেই কেবল বোঝা যাবে।

ছুঁতে গেলেই পথ যে হারায়      গেছে যারা আর ফেরে নাই।

কোথায় তারা গেল যারা!      কেথায় যাব আমরা সবাই!

 

কাটে জীবন ভয়েই শুধু      তবু ভয়ের মাঝে এত মধু!

ভয়ের মাঝে বাস করি হায়     আবার ভয়ের দেশেই যায়

তবে তফাৎ কোথায় জীবন—মরণ! কিসের এত ভয়।

 

একটি নাও তাতে শুধু আমি আর ও, আমার স্বর্গীয় অতিথি। ও একটি বারের জন্যও আমার দিকে তাকালো না, একটু ঈশারা পর্যন্ত করলো না। কত পথ পাড়ি দিলাম জানা অজানা -নানা সম্ভারে নৌকাটা বোঝাই করলাম। আশা শুধু একটায়, ওপারের ঐ স্বর্গীয় অতিথির সুখ।

 

কতবার কতভাবে  সকল জানা ও শোনা সুরে

শুধালাম তারে কত আকুতি করে

দিয়েছি শুন্য করে যা ছিল সম্বল মম

ক্লান্ত অবসন্ন আমি একটু তাকাও একটু থামো ।

 

যে সুখের পিছে     জীবনভর ধেয়েছি মিছে মিছে

সেই তুমি বুকে বসে ডাকিছ সদা       আমি অবুঝ কেবল দিয়েছি তাতে বাধা।

বলেছি কেবল না না     যদিও আছে আমার জানা।

 

অবুঝ শিশুটি কেবলই কাঁদে

খেলা ফেলে না পড়তে ঘুমের ফাঁদে।

ঘুমিয়ে যখন সে পড়ে

চোখের পাতা একটুও না নড়ে।

 

আহ কি শান্তি, কি তৃপ্তি, কি মুক্তি!

কোথায় তারা, কোথায় সে কড়ানো সুক্তি!

খোজে না সে কারো,    চায় না সে কিছু আরো

 

মানিক গিয়েছে অমৃত গড়ে    থাকলো যা নিয়েছিলো সব পিছে পড়ে ।

সারাক্ষণ বুকের মাঝে বসি   ধুকধুকিয়ে বলেছ দিবা নিশি    ফিরে চল মানিক আমার ।

এপারে যা কিছু   ধাবিছ পিছু পিছু   সব মিছে সোনা মধু মরিচিকা শুধু

আবাস যে ওপারে তোমার ।

 

না বুঝে সে কথা    কেবল দিয়েছি তোমাকে ব্যথা

সাগরে পাহাড়ে করে টানাটানি   মণি মাণিক্যের খোজ আনি ।

কি যে চাও তুমি!   অধম মূর্খ আমি   একবারও ভাবি নাই সেকথা ।

ছুটলাম মাঠে ঘাটে সমতলে পর্বতে

যৌবনে বার্ধক্যে, দিনে রাতে ।

 

ধাবিলাম আমি মেরুতে মেরুতে    সবুজ শ্যামলী, মরুতে মরুতে

আনিলাম সাধ্য মত    ন্যায় অন্যায় করে পদানত।

কিন্তু একি হায়!    সে যে চলে যায়

হাসি মুখে খালি হাতে, কিছুই না নিয়ে সাথে   ভালো বা মন্দ

মহামিলনের তরে   ফেরে সে ঘরে

কেবলি যাওয়াতেই যেন অমৃত আনন্দ!

 

কতকাল ঘরে ফেরে নাই ওরে   রোদে বৃষ্টিতে কাটিয়েছে কতকিছু করে

জীবন যে কেটেছে কেবল যাওয়ারই ধ্যানে ।

ডাক এলো যেই    সব কাজ শেষ হলো সেই

চলে গেল মহামিলনের মহাতৃপ্তির অস্বাদনে ।

 

কষ্ট শুধু তাদের    রেখে গেল যাদের

গোলক ধাঁধার এ মহারোন্যে ।

অসহায় মানুষ করে হাহাকার     তবু চলবে সে রথ সাথে নিয়ে সবার

থামবে না সে কারো জন্যে ।

 

কে যেন আনমনে     বলে কানে কানে

শোণ! অমৃতের খোজ পাবে না এ জীবনে ।

সে স্বাদ যে কেবল মরণের মাঝে    স্বর্গের জিনিস মর্তে কি সাজে!

মর্তে বসে আমি, হায় অন্তরযামী!

স্বর্গের জিনিস খুজেছি এ ভূবনে!

 

তড়িৎ লহ মোরে বুকে করে    নিবৃত কর এ যন্ত্রনা ভার।

খুঁজেছি যারে জীবন ভোর     মিটাতে এ যাতনা মোর

তুমিই যে সেই ধাঁধা    সেই অমৃত সুধা।

 

আহ! যত অপেক্ষা মম শুধু তোমারই জন্য প্রিয়তম বন্ধুআমার।

এবার বের করো মোরে    লহ তব বাহু ডোরে

নিয়ে চলো সেথা    এসেছি হতে যেথা

সাঙ্গ হোক যা কিছু বৃথা।

 

বুঝিলাম অবশেষে      জীবন সায়াহ্নে এসে

দূরে রাখি ঠেলে যারে সারাক্ষণ   সেই যে ওরে অতি আপন জন!

যত শ্রম যত চেষ্টা মম পাপ বা পূণ্য

সোনা মানিক! সবইতো তোমারই জন্য ।

জানো তুমি স্বর্গীয় আত্মা, জানে বিধাতা ।

 

স্বর্গ থেকে এসেছিলে   স্বর্গে যাবে চলে

মর্তের তাকে,    মাটি নেবে বুকে

হায়! আমি যে কে তা     কেউ গেলেনা বলে সেকথা ।

জীবন সায়াহ্নে হিসাব মিলায়,    কি তাঁকে দিলাম, কি সে চায়!

Category: Bangla, Moral Stories

Write a comment