ফুল স্যার

meherhossain1752@gmail.com

 

 

বাড়ী এসেছি কদিন হলো। নিজেকে নিয়ে ভাববো বলে, পিছন ফিরে তাকাবো বলে।

ঘুম আসে না। আগে ভোরের আজানের শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠতে অলসতা লাগতো আর এখন একতলার উঁচু বারান্দায় ইজি চেয়ারে হেলান দিয়েই ভোরের আজানের শব্দে চমকে উঠে উপরে উঠে যায়।

কোন হিসাবই মিলাতে পারি না।

এতকাল যা কিছুকে নিজের অর্জন, নিজের গড়া আপন ভুবন মনে করতাম তার সব ছেড়ে, সবাইকে ছেড়ে চলে আসলাম একদম উৎপত্তির কাছে। আমার জন্ম স্থানে। আমার পরদাদার ভিটা এটা। পুরানো জমিদার বাড়ী। বাড়ীটা দাড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। আধুনিকতার আর্শিবাদ এ এলাকার একাকিত্ব ঘোচালেও এখনো এখানে নির্জনতা আছে, প্রকৃতি আছে।

বাড়ীর অন্যান্য অংশে মানুষ জন থাকলেও বাবার একমাত্র ছেলে হবার সুবাদে এ অংশটায় অন্য কেউ বসবাস করে না। একদম নির্জন বলা যায়।

চারদিক উঁচু বারান্দা ঘেরা দোতলা বাড়ীটা সবুজ ঘাসে ঘেরা প্রশস্ত লনের মাঝখানে দাড়িয়ে। কালে ভাদ্রে বাড়ী আসলে এদিকটায় থাকি। তায় পাঁচিল দিয়ে ঘিরে একটা গেট লাগিয়েছিলাম নিরাপত্তার কথা ভেবে।

সরকারী চাকরী শেষ করতে করতে জীবনের সোনালী দিনগুলোও শেষ হয়ে গেল। যত পরিচিতি, যোগাযোগ, চিন্তা চেতনা তার সবটুকুই বলতে গেলে কোন না কোন ভাবে চাকুরীর সাথে সম্পৃক্ত।

যে বয়সে পিতা মাতা বড় ভাই বোন বা শিক্ষক শিক্ষিকার প্রভাব মুক্ত হয়ে মানুষ সব কিছুকে নিজের মত করে ভাবতে শেখে তেমন একটা স্তরে পৌছানোর আগেই সরকারের চাকর হয়ে বাড়ী ছেড়েছিলাম।

এতসব আমার এখনকার উপলব্ধি- তখনকার নয়। তখন তারুণ্যের জ্যোতিতে জ্বলজ্বল করা ইন্দ্রিয়ের শাসনে পরিচালিত হয়ে চাকুরীতে ধাপে ধাপে উপরে ওঠাকেই প্রতিষ্ঠার মাপকাঠি বিবেচনা করে সে পথে ছুটেই দিন মাস বছর কাটিয়ে দিয়েছি। জীবিকা অর্জনকেই জীবন ভেবে ওই পথটা ধরেই এগিয়েছি।

কত পথ মাড়িয়েছি!

নতুন কোন এ্যাপোয়েন্টমেন্টে যোগদান করে আশে পাশের সবার প্রশংসায় মোহিত হয়ে পুরানো যা কিছু পছন্দ হয়নি তা অসুন্দর অন্যায় অসত্য আখ্যা দিয়ে নতুন করে সবকিছু গড়ার দূত পরিবর্তনের দূত  হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করেছি। 

তখন দৃষ্টি ছিল শুধু সামনের দিকে, অন্যান্য সবার দিকে।

কারো কাছে মেধাবী বা নীতিবান স্যার, কারো কাছে কড়া আবার কারো কাছে দয়ালু স্যার হতে হতে শেষ ষ্টেশানে চাকুরীর বিদায়ের দিন হাজির হলো। আমার জায়গায় যিনি এসেছেন তাকে সব কিছুই বুঝিয়ে দিয়েছি। পরদিন থেকে আমার আর কোন কর্তৃত্ব থাকবে না, দায়বদ্ধতাও থাকবে না। মহাসমারোহে বিদায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ভাষন শেষে সবার অশ্রুপূর্ণ চোখের দিকে তাকিয়ে একটা পরিপূর্ণতার আশ্বাদে হৃদয়টা ভরিয়ে বাসায় ফেরার জন্য শেষ বারের মত সরকারী গাড়ীতে উঠেই গন্ধ পেলাম পরিবর্তনের।

-নতুন স্যারের প্রতিদিন একটা করে রজনীগন্ধার তাজা ছড়া নষ্ট করা পছন্দ না তায় তিনি রজনীগন্ধার পরিবর্তে একটা সেণ্টের শিশি গাড়ীতে রাখতে বলেছেন।

গাড়ীটা চালু করতেই  কথাটা ড্রাইভার বললো আমাকে। 

পুরানো ড্রাইভার, প্রথম থেকেই আমার সাথে। কৃত্তিম গন্ধে আমার মাথা ধরে সেজন্য এখানে যোগদানের প্রথম দিনই গাড়ীতে রক্ষিত সেণ্টের শিশির জায়গায় রজনীগন্ধার ষ্টিক রাখার ব্যাপারটা আমারই নির্দেশ ছিল সেটা ও জানে। সেদিন প্রাকৃতিক আর কৃত্তিম জিনিসের ব্যবধানের উপর নাতিদীর্ঘ একটা ভাষনও দিয়েছিলাম। ধৈর্য ধরে শুনেছিল ও।

আমার সমস্যার কারণটা বুঝেই তাড়াতাড়ি করে কথাটা বললো আমার পুরনো ড্রাইভার।  

বাসায় ফিরে সেদিনই প্রথম দৃষ্টি দিলাম নিজের দিকে। পিছন দিকে দেখলাম তাকিয়ে। মনটা ব্যথায় টনটন করে উঠলো।

জীবনটা গড্ডালিকা প্রবাহ মনে হলো। এতকাল ধরে আমি ছিলাম নতুন অন্য সব পুরানো। আজ আমি পুরানোর দলে। জীবনটা এক অজ্ঞানতার গোলক ধাঁধা মনে হলো।

জীবনের এই প্রান্তে এসে পৃথিবীটাকে কেন জানি মেকি স্বার্থান্বেষী আর চাটুকারীতায় পরিপূর্ণ মনে হতে লাগলো।

হাফিয়ে উঠলাম। এতকাল ধরে নিজ হাতে গড়া সবকিছু হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ার উপক্রম হলো।

তায়তো হিসেব মিলাতে এই উৎপত্তির কাছে আসা।

সেদিন ভোর রাতে মৃদু বাতাসে অপূর্ব এক সুবাস ভেসে আসতে লাগলো। খুব ভালো লাগলো। লনের কোণায় একটা ঝাকড়া শিউলি ফুলের গাছ সেদিকে নজর পড়তেই দেখলাম ওর তলা আলো আধারীতে সাদা হয়ে গেছে। ওখান থেকেই আসছে সুবাস।

ভাবছি কয়েকটা ফুল কুড়িয়ে আনি। চেয়ার থেকে উঠবো এমন সময় হটাৎ করে নজরে পড়লো শিউলির তলায় কিছু একটা যেন নড়াচড়া করছে।  

উঠে বসলাম। ভালো করে দেখার চেষ্টা করলাম।

কেউ একজন ফুল কুড়াচ্ছে, বাচ্চা বয়সী।

এত ভোরে কে ফুল কুড়াচ্ছে! গেট  বন্দ, ঢুকলোই বা কেমন করে!  

নিঃশব্দে নেমে গেলাম লনে।

একটা ছোট মেয়ে আপন মনে ফুল কুড়াচ্ছে।

আমার উপস্থিতি টের পেয়ে ও তাকালো আমার দিকে। একটু অবাক হলো।

-এগুলো তো নষ্টই হয়ে যায়, তুমি বারন করলে কাল থেকে আর আসবো না।

-না না বারন করছি না তুই কুড়ো ওগুলো।

অভয় দিলাম ওকে।

-কি করবি ওগুলো দিয়ে?  

ওর কাছে রাখা সুতোয় ওগুলো গেথে বাজারে বিক্রি করে তারপর বাড়ী ফিরবে বলে জানালো ও।

-তুই ঢুকলি কি করে বাউন্ডারীর ভিতর?

মৃদু হাসলো মেয়েটা।

-কিরে হাসছিস যে?

কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম।

-তোমরা বড় মানুষ তায় বড় বড় সব কিছু তোমাদের চোখে পড়ে। ওপাশের দেয়ালের কোণায় ছোট্ট সুড়ঙ্গ দিয়ে ঢুকেছি। আমি না দেখালে তা তোমার চোখেই পড়বে না।

গলায় একটা চাপা হাসি আটকে রেখে বললো কথাটা।

-কত বিক্রি করিস ওগুলো?

ও এবার হাসলো  একটু শব্দ করে।

-যে কয়টা মালা হবে সেভাবেইতো দাম।

বেশ মজা লাগছিল ওর সাথে কথা বলতে।

-তা একটা মালার দাম কত?

-আমি বেশী দাম চায় না, পাচ টাকা হলেই দিয়ে দিই।

ততোক্ষনে ওর ফুল কুড়ানো শেষ। একটু আলো ফুটেছে। প্যাণ্টের গাট থেকে সুতো বের করে গাঁথতে শুরু করলো।

এলোমেলো ঝাকড়া একগুছো চুল ওর মাথায়। ছোট গোল মুখটা, শুখনো। গায়ে ময়লা একটা ফ্রক।

মালা হাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য উঠে দাড়ালো।

পাতলা শরীর তাতে অপুষ্টির ছাপ পরিষ্কার। বয়স আট নয় হবে।

-আমি যায়।

-কি ভাবে যাবি?

-কেন ওই গর্ত দিয়ে।

আবার সেই দুষ্টুমি ভরা হাসি।

-তোকে গর্ত দিয়ে যেতে হবে না। আমি গেট খুলে দেব।

একটু অবাক হলো ও।

-তোর মালাগুলো আমার কাছে বিক্রি করবি?

কোন জবাব দিল না। তবে ঘাড় নাড়লো।

ওকে বারান্দায় উঠে আসতে বললাম।

মালাদুটো ওর কাছ থেকে নিয়ে পকেট থেকে বিশ টাকার একটা নোট বের করে দিলাম।

-আমার কাছেতো খুচরো নেই।

-লাগবে না।

কি যেন একটা ভাবলো ও।

-ঠিক আছে কালকে তোমাকে আরও দুটো মালা দিয়ে যাব।

ওর কাছ থেকে জানলাম কয়েক বছর হলো ওর বাবা মারা গিয়েছে। ওর বড় একটা বোন আর দুটো ভাই। বোনটার বিয়ে হয়েছে আর ভাই দুটো অন্যের বাসায় কাজ করে। ও মায়ের সাথে আমাদের বাড়ীর সামনের বড় মেহেগুনি বাগানটা পেরিয়ে জঙ্গলের মধ্যে একটা চালা ঘরে থাকে। মানুষের বাড়ীতে কাজ করে ওর মা।

ঠিক হলো প্রতিদিন সকালে ও আসবে ফুল কুড়াতে। তবে পাঁচিলের সুরঙ্গ দিয়ে আর ওকে ঢুকতে হবে না। ভোরে গ্রিলের গেটে খট খট শব্দ করলেই আমি গেটটা খুলে দেব। ও ফুল কুড়িয়ে মালা গেথে আমার কাছে বিক্রি করবে।

ও চলে গেলে আবার চেয়ারে গাটা এলিয়ে দিলাম। আজ আর উপরে উঠতে একদম ইচ্ছে করলো না।

চারিদিক ফর্সা হয়েছে ততোক্ষনে। ধীরে ধীরে ব্যস্ত হতে শুরু করেছে ঘুম থেকে জেগে উঠা পৃথিবীটা। ভারী চমৎকার আজকের সকালটা।

মেঝের দিকে নজর পড়তেই দেখলাম একটা পিপড়ের সারি। ওরা মুখে করে খাবার বয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

রাতেও কাজ করে নাকি ওরা! অবাক লাগলো ভাবতে।

ওদের বাসা কোথায় দেখতে খুব ইচ্ছে হলো। উঠে দাড়িয়ে ওদের সারি অনুসরন করে আবিষ্কার করলাম ওরা খাবার নিয়ে দরজার চৌকাঠের ফাক দিয়ে আমারই ঘরের ভিতর ঢুকছে। 

দরজাটা ভিতর থেকে বন্দ। কিন্তু তা ওদের জন্য কোন বাধায় না।

যে ঘরে থাকি সেখানেই  আমার অজান্তে কত কিছু ঘটছে! 

পরদিন খুব ভোরে আসলো মেয়েটা। গেটে ওর একটা টোকায় গেটটা খুলে দিলাম।

নিমগ্ন হয়ে ফুলগুলো কুড়োচ্ছে ও। ভোরের আলো ফোটার আগেই ফুল কুড়ানো শেষ হলো।

-তোমার বারান্দায় বসে গাথি ফুলগুলো। মালাগুলোতো তোমাকেই দিতে হবে।

বারান্দায় উঠে এল ও। মেঝেই বসে সব ফুল গাঁথলো। মালাদুটো নিয়ে বিশ টাকার একটা নোট এগিয়ে দিলাম।

-আজতো তোমার টাকা শোধ হবে মনে নেই তোমার।

মাথা নেড়ে জানালাম মনে আছে।

-গত কালের হিসেব তোর করা লাগবে না। আজকেরটা করলেই চলবে।

ও তাকালো আমার চোখের দিকে। কি যেন ভাবলো। তারপর টাকাটা নিল আমার হাত থেকে।

– আমি যাই স্যার।

একটু অন্যমনষ্ক মনে হল ওকে।

-তোমার কোন কাজের মানুষ লাগবে?

-না, কাজের লোক দিয়ে আমি কি করবো?  

হালকা ভাবে জবাব দিলাম ওর কথার।

সেদিন বৃষ্টি হলো ভোরে। ঘর থেকে একটা ছাতা বের করে ওকে দিয়ে ওটা মাথায় দিয়ে ফিরতে বললাম।

-হলদে ছাতা!

বুঝলাম রংটা ওর খুব পছন্দ।

প্রতিদিনই আসে মেয়েটা। এরপর অধিকাংশ দিন ও টোকা দেয়ার আগেই গেটটা খুলে দিই। আমি শুধু তাকিয়ে দেখি ওকে। সেও তাকায় আমার দিকে কাজের ফাকে ফাকে।

কথা হয় না খুব একটা।

মালা দিয়ে টাকা নিয়ে যায়।

-তুমি কি আর কিছু বলবে?

লক্ষ করছি গত কয়েকদিন থেকেই যাওয়ার আগে কথাটা জিজ্ঞেস করে ও আমাকে। না বলে জবাব দিই। তবে অবাক হই একটু।

হটাৎ একদিন আসলো না মেয়েটা। অবাক হলাম, ভাবলাম হয়তো কোন অসুবিধা হয়েছে। পরদিনও আসলো না, তার পর দিনও না। অস্বস্তিতে মনটা ভরে উঠলো।

ওর সাথে দেখা হওয়ার পর থেকে খুব ভোরে উঠে গেট খুলতে হবে বলে সকাল সকাল বিছানায় যাওয়ার একটা তাড়া অনুভব করতাম। কিন্তু এখন তেমন কোন তাড়া না থাকায় ঘুম আসে না। বিছানায় যেতে ইচ্ছে হয় না।

ঘরের ভিতর পায়চারি করে রাত কেটে যায়। ওর কুড়ানো ফুলের গন্ধে ঘরটা ভরে থাকে সারাক্ষন।

এ কয়েক দিনে ঘরের ফুলগুলো শুখিয়ে গেল। গাছের তলায় পড়ে থাকা ফুল গুলোও জঞ্জাল হয়ে যেতে লাগলো।

কি হলো মেয়েটার!

হু হু করে উঠলো মনটা।

সেদিন ভোরের আলো ফুটতেই ওর দেয়া বর্ণনা মোতাবেক মেহেগুনি বাগানের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া একপেয়ে পথ ধরে রওয়ানা হলাম।

মেহেগুনি বাগানটা পার হয়ে কয়েকটা বাশের ঝাড় তারই ফাক দিয়ে চোখে পড়লো একচালা একটা ঘর।

ওটার সামনে যেয়ে দাড়িয়ে একটু ইতস্তত বোধ করতে লাগলাম। কারো কোন সাড়া শব্দ নেই।

-আপনে কি ফুল স্যার?

মাঝ বয়সী একজন মহিলা। পাশে কোথাও ছিল।

ওর কথা ঠিক বুঝলাম না।

-ফুলি আপনার কথা বলছে। ও বলছে আপনে আসপেন।

মহিলা কুড়ে ঘরটার ভিতর প্রবেশ করলো।

অনুমান করলাম মেয়েটার নাম ফুলি আর ও ফুলির মা।

হলুদ রংয়ের একটা ছাতা হাতে বেরিয়ে আসলো ফুলির মা। চেনা মনে হল ওটা। মনে পড়লো সেদিন সকালে বৃষ্টি হচ্ছিল তায় ছাতাটা আমি দিয়েছিলাম ওকে।

-বেশ ক’দিন আগেই টাউনের এক খালাম্মা ফুলিকে নেবে বলে রেখেছিল। এখন খালাম্মার মেয়েটা বিদেশ যাচ্ছে তায় তাড়াহুড়ো করে নিয়ে গেল ফুলিকে। ওনারা আমার ফুলিকে লেখাপড়া শিকাবে, ভাল বিয়ে দেবে বলেছে।

ছাতাটা আমার হাতে দিতে দিতে কথাগুলো বললো ফুলির মা।

-ফুলি যাওয়ার সময় বললো- দেখবা মা ফুল স্যার ঠিকই আসপে। আসলে ছাতিটা তিনাকে ফেরত দিও।

আমি যে ছাতাটা আনতে যাব যেটা আমার আচরনে ওইটুকু মেয়ে বুঝতে পারলো!

কি করবো ঠিক বুঝতে পারছিলাম না।  ছাতাটা নিলাম।

ভাবলাম আমি সারা জীবন ধরে নিজে নিজেকে না চিনলেও ওই ছোট্ট মেয়েটা ঠিকই চিনেছে আমাকে, সত্যিই আমি ফুল স্যার অর্থাৎ অপদার্থ!

Category: Bangla, Short Story

Write a comment