দায়িত্ববোধ

 

 

 

-স্যার এর নাম শহিদ, এখানে বোর্ড অফিসে মালির কাজ করে, থাকে পিছনে

আপনার সার্ভেন্ট কোয়াটারে।

আমরা ঢুকতেই হন্তদন্ত হয়ে মাঝ বয়সি রোগা চেহারার একজন লোক ছুটে

আসলো। ওর পরনে প্যাণ্ট আর গায়ে ছেড়া গেঞ্জি। প্যান্টটা হাটু অব্দি ভাজ করা,

হাতে পায়ে মাটি লেগে আছে আর কপাল বেয়ে ঘাম পড়ছে। মনে হলো কোন কাজ

করছিলো। গেট খোলার শব্দে টের পেয়ে ছুটে এসেছে।

সালাম দিয়ে হাতটা কাচুমুচু করে দাড়ালো।

পরিচয় করিয়ে দিয়ে আমার পিএ কথাগুলো বললো।

শহিদের অকারণে অতি আনুগত্য দেখানো আমাকে একটু অবাক আর বিব্রত

করলো।

বদলী হয়ে নতুন ষ্টেশানে যোগদান করেছি ক’দিন হলো। তখনো আমার স্ত্রী আর

সন্তানদের নিয়ে আসিনি, তাই বাসায় না উঠে গেষ্ট রুমে থাকি। বাচ্চাদের পরীক্ষা

শেষ হলেই আসবে ওরা। আগের বাসায় শুধু প্রয়োজনীয় কিছু মালপত্র রেখে বাকি

সব নিয়ে এসে এখানে আমার নতুন সরকারী বাসায় উঠিয়ে তালা মেরে রেখেছে

আমার পিএ।

টেলিফোনে স্ত্রীর অনুরোধের প্রেক্ষিতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন সকালে পিএ’কে সাথে

নিয়ে বাসাটা দেখতে গেলাম।

পাঁচিল ঘেরা বাড়ীটা। গেটের চাবি পিএ’র কাছে থাকে। গেটটা খুলে ভিতরে প্রবেশ

করলাম। সামনে বেশ প্রশস্ত লন, ঘাসগুলো পরিপাটি করে ছাটা। ভালো লাগলো

প্রথম দৃষ্টিতেই। 

-কি করছিলে। জিজ্ঞেস করলাম আমি ওকে।

-আপনার সবজির বাগানটা কুপিয়ে পানি দিচ্ছিলাম স্যার।

আমি একটু উৎসুক হয়ে উঠলাম। বাসায়ই এখনো উঠলামই না আর ও আমার

সবজির বাগান ঠিক করছে।

ওকে অনুসরন করে বাগান দেখার জন্য গেলাম।

বাসার পিছন দিকটাতে এতখানি জায়গা সামনে থেকে বোঝা যায় না। পুরো

জায়গাটায় কোপানো। ছোট ছোট করে বেশ কয়েকটা প্লট তৈরী করা, তার

কোনটাতে লাল শাকের আগা আবার কোনটাতে গাজরের সবুজ কচি পাতা ইত্যাদি

উঁকি দিচ্ছে।

ও আমাকে সোৎসাহে প্লট গুলো দেখিয়ে কোনটাতে কি লাগিয়েছে তা বর্ণনা করতে

লাগলো।

ভারী ভালো লাগলো সবজির বাগানটা দেখে। বুঝলাম বেশ কিছুদিন ধরেই এর

পিছনে খাটাখাটি করছে শহিদ।

পিছনের বাউন্ডারী ওয়ালের সাথে যাতায়াতের ছোট্ট একটা পকেট গেট। বাউন্ডারীর

বাইরে টিনের ছাপড়া দেয়া একটা ঘর, ওভার হেড ওয়াটার ট্যাঙ্কের একদম গা

ঘেঁসে দাড়িয়ে। ট্যাঙ্কটা উপচে পানি পড়ছে অবিরাম।

জিজ্ঞেস করলাম ওটা কি।

-আপনার সার্ভেন্ট কোয়াটার স্যার ওখানেই আমি থাকি।

ওটা দেখার জন্য গেলাম। জায়গাটা পাহাড়ী, সার্ভেন্ট কোয়াটারের পরেই একটা

পাহাড়ী ঝরনা আর তার ওপারেই জংলী পাহাড়।

ওয়াটার ট্যাঙ্ক উপচে অবিরাম পানি পড়ায় পুরো জায়গাটাই স্যঁতস্যেঁতে। ঘরের আশপাশ বড় বড় ঘাস আর লতা পাতায় ভরা। সামনের জায়গা টুকুতে লাউ সিম

ইত্যাদির মাচা। অনেকগুলো কচি কচি লাউ ঝুলছে।

ভারি ভালো লাগলো দেখতে।

মাচার কাছাকাছি লাল শাক আর গাজরের প্লটও নজরে পড়লো। তবে এগুলো

ভিতরের প্লটের মত অত যত্ন করে তৈরী না।

হটাৎ করেই আমাদের পাশ থেকে গায়ে মাথায় শাড়ীর আচল টানতে টানতে ছোট

একটা বাচ্চা কোলে একজন মহিলা হন্তদন্ত হয়ে ওর ঘরের ভিতর প্রবেশ করলো।

খুব নিকটেই ঘাস লতার আড়ালে বাচ্চা কোলে বসে ছিল একদম দেখা যায়নি।

শহিদ জানালো ওটা ওর স্ত্রী, চারটে ছেলে মেয়ে ওদের। ওর বড় ছেলেটা এক

মাস পরেই ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেবে, তার ছোট পর পর দুটো মেয়ে, বোর্ড সরকারি স্কুলে পড়ে সবাই। সব শেষে ঐ কোলের একটা ছেলে।

শোয়ার একটা ঘর আর ওটার দেয়ালের সাথে টিনের চালা করে রান্না ঘর।

চারিদিকটা খোলা। একটু দূরে ভগ্নপ্রায় একটা পায়খানা।

বোঝা যায় শোয়ার ঘরটার উপর এক সময় ছাদ ছিল। এখন শুধু দেয়ালগুলোই

দাড়িয়ে আছে এবং তার উপর টিনের ছাপড়া দিয়ে ঘরটাতে ওরা বসবাস করে।

শহীদ আর ওর পরিবার প্রায় বিশ বছর ধরে এই ঘরটাতে বসবাস করছে।

অর্থাৎ ওর সবগুলো সন্তানই এই ঘরেই জন্মগ্রহন করেছে। অনেক স্মৃতি বিজড়িত

ঘরের প্রতিটি কোনা ওদের কাছে।

-এ পর্যন্ত সব স্যারেরাই দয়া করে থাকতে দিয়েছে আমাদের। একটু হেসে পান

খেয়ে কালো হয়ে যাওয়া দাতগুলো বের করে শহিদ বললো।

অর্থাৎ শহিদ আর ওর পরিবার বিভিন্ন অফিসারদের মর্জির উপর নির্ভর করেই

বিশটা বছর কাটিয়েছে ঐ ভগ্নপ্রায় ঘরটাতে।

এতোক্ষনে বুঝলাম শহিদ আমাকে খুশী করার জন্য এত উদগ্রীব কেন।

-বাড়ীর ভিতরের সবজির বাগানটাতো খুবই সুন্দর তা তোমারটা ওরকম সুন্দর হয়

না কেন।

আমার কথায় ও খুশীতে গদ গদ হয়ে কি যে করবে ভেবে পাচ্ছিলো না।

-ট্যাঙ্কের পানি উপচে পড়ে সব স্যাঁত স্যেঁতে হয়ে গেছে, রোগ শোক হবেতো।

-ও কিছু না স্যার, জায়গাটা ভিজে থাকাতে বরং গরমের দিনে বেশ ঠান্ডা থাকে আর

শাক সবজিগুলোও ভালো হয়।

নিজেকে একটু সহজ করলো শহিদ।

-আগের স্যার চলে যাওয়ার পর থেকেই বাবলু মানে আমার বড় ছেলেটা প্রতিদিন

জিজ্ঞেস করে। বাবা তুমি কি নতুন স্যারের সাথে কথা বলেছো। আমাদের থাকার

ব্যাপারে কোন সমস্যা নেইতো। তায়তো স্যার আপনার সাথে দেখা করার জন্য

কতদিন ধরে অপেক্ষা করছি।

আমি ওর উদ্বেগভরা মুখটার দিকে তাকিয়ে কথা গুলো শুনছিলাম।

-ছেলেটার ম্যাট্রিক পরীক্ষা একমাস পর তায়তো ওর অত চিন্তা। শহীদ ও তার

পরিবার বাস করে একটা পরিত্যক্ত ঘরে, যার উপর আমার কোন অধিকার নেই।

যা আমার না সেব্যাপারে আমার মর্জি না মর্জির কি আছে?

নিজের আজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে গেল। এখানে থাকার ব্যাপারে আমি ওকে পুরাপুরি ভাবে আশ্বস্ত করে রেষ্টহাউজে ফেরত আসলাম।

আমার পরিবার এখানে আসবার সময় প্রায় হয়ে এলো। জিনিস পত্রগুলো যতটা

পারা যায় খুলে একটু গোজগাজ করার জন্য বাসায় গেলাম বেশ কয়েকদিন পর।

শহিদ হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো। ওর মুখটা ভীষণ মলিন। ছোট ছেলেটা কোলে করে

ওর বউটাও এলো ওর পিছন পিছন। সেদিন ঘোমটা টেনে দেয়ার জন্য মুখটা দেখা

যায়নি। আজ ওর মাথায় ঘোমটা নেই। ভীষণ রোগা ওর বউটা। কোন ক্রমেই সুস্থ

বলা যায় না। খুবই উদভ্রান্ত দেখাচ্ছে ওকে।

ওদের এরকম অবস্থা দেখে বুকের ভেতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠলো। ভাবলাম বড়

ধরণের কোন সমস্যা হয়নিতো।

-স্যার আমাদের কি হবে, আমার ছেলেটা পরীক্ষা দেবে কিভাবে। কান্নায় ভেঙ্গে

পড়লো শহিদ।

আমি একদম হতভম্ভ।

ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক ওদের ঘরটা অনেক বছর আগে থেকেই পরিত্যক্ত

ঘোষনা করা হয়েছে। তায় ওটা ভেঙ্গে ফেলার কথা অনেক আগেই। কিন্তু কোন

কারণে ভাঙ্গা হয়নি।

নতুন চিফ বদলী হয়ে এসেছেন কয়েকদিন হলো। মানুষের জীবন নিয়ে কিছুতেই ছিনিমিনি খেলতে দেবেন না তিনি, তায় আদেশ দিয়েছেন অনতিবিলম্বে এ ধরণের সকল পরিত্যক্ত ঘোষিত বাড়ী ভেঙ্গে ফেলার জন্য।

ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের লোক এসে ওদেরকে তিন দিন সময় দিয়ে বলে গেছে

ঘর খালি করতে। চতুর্থ দিন বুলডোজার এসে ঘর ভেঙ্গে দিয়ে যাবে।

আমি ওদেরকে অভয় দিয়ে বললাম- এত ভেঙ্গে পড়োনা, একটা না একটা ব্যবস্থা

হবেই। কালকে আমি নিজেই চিফের সাথে কথা বলবো।

ওরা আপাততঃ আশ্বস্ত হয়ে ফিরে গেল।

ওদের জন্য কিছু করতে পারবো বলে মনে হয়না। নতুন চিফের সাথে তেমন পরিচয়

নেই। তবুও কি ভেবে যে আশ্বাস দিলাম তা জানিনা। কিন্তু মনে জোর ছিল।

পরীক্ষার ব্যাপার আর মাত্র তো এক মাসের জন্য।  ভাবলাম মনে মনে। 

নতুন চিফ জয়েন করেছেন কয়েকদিন হলো। তিনি সব জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখে

শুনে দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন। তায় ভীষণ ব্যস্ত, বলতে গেলে অফিসেই বসেন না গত

কয়েক দিন।

খুবই মেধাবী এবং পরিশ্রমী তিনি। সব কিছুই হাতের মুঠোই নিয়ে প্রশাসন চালাতে

বিশ্বাসী। তিনি অসম্ভব রকমের সৎ, কোন রকম স্বজনপ্রীতি ওর অভিধানে নেই।

প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিয়মকানুনের প্রতিটি ধারা মেনে তিনি কাজ করেন।

দুদিন ধরে অপেক্ষা করলাম কিন্তু কোন রকমেই দেখা করার সুযোগ পেলাম না।

ভাবলাম দেখা আমাকে করতেই হবে কারণ আমি যে শহিদ আর ওর বউকে আশ্বাস দিয়েছি।

উপায়ন্তর না দেখে তিন দিনের দিন সকালেই সরাসরি আমি চিফের অফিসে গেলাম অফিস শুরু হওয়ার অনেক আগেই। যে করেই হোক দেখা আমাকে করতেই হবে।

সময়মত তিনি অফিসে আসলেন। ভীষণ ব্যস্ত একটু বাদেই বেরিয়ে যাবেন ভিজিটে।

এত ব্যস্ততার মধ্যেও কিছুটা অনন্যপায় হয়ে আমাকে ভিতরে ডাকলেন তিনি। আমি সংক্ষেপে বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বললাম। বিশেষ করে শহিদের ছেলের পরীক্ষা

পর্যন্ত অপেক্ষা করার জন্য ভীষণ ভাবে অনুরোধ করলাম।

তিনি ওদের প্রতি আমার দরদের বিষয়টি প্রশংসা করলেন। ওদের প্রতি ওর নিজের

দরদ কোন অংশে কম না বলেও তিনি জানালেন।

-আপনি ছেলের পরীক্ষার জন্য বলছেন, কিন্তু ওদের যদি জীবনটাই না বাচে তবে

পরীক্ষা দেবে কি ভাবে সেটা ভেবে দেখেছেন। ঘরগুলো অনেক বছর আগেই

পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে কিন্তু কেউ ভাঙ্গেনি, কি সর্বনাস সেটা যে কোন

সময়ে ওদের মাথার উপর ভেঙ্গে পড়ে মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। জীবন বড় না

পরীক্ষা?

ইচ্ছে হলো বলি – পনেরো বছর ধরে যিনি ওদেরকে বাচিয়েছেন আশা করা যায়

বাকি কয়েকটা দিনও তিনিই ওদেরকে বাচাবেন।

ভাবলাম বলে কোন লাভ হবে না।

-সব নতুন জুতোর ঐ একই সমস্যা। যত মাপামাপি করেই তা কেনা হোক না কেন

পায়ের সাথে মানানসই হতে একটু সময় নিবেই। তদুপরি জুতোটা নতুন বলে

চকচকে থাকে কিছুদিন। আর চকচকে অর্থই জুতোটা অপরকে দেখানোর মধ্যেই

সার্থকতা।

একদিকে সেটাকে পায়ের সাথে ফিট করানো আর অন্য দিকে আশেপাশের সবার

দৃষ্টি সেদিকে আকর্ষন করানোর জন্য নানা কর্মকান্ড চালাতে হয়। পায়ে একটু আধটু চিমটি কাটলেও নতুন জুতোর গরমে তা খুব একটা টের পাওয়া যায় না।পুরনো জুতোটা তিনি খুলে ফেলে দিয়েছেন, কিন্তু নতুন জুতোটার ব্যাপারে এখনও অনভিজ্ঞ। এমতাবস্থায় তিনি এখনো নিজের মত নন, জুতোর প্রাধান্যই বেশী। এ সময়টাই সকলে জুতোর প্যাকেটে লেখা বিজ্ঞাপন অনুযায়ই কাজ করেন। কেবল মাথা দিয়েই সব কিছু করেন, বই পড়ে পড়ে , হৃদয়টা সামনের সারিতে  আসতে সময়তো লাগবেই।

ব্যস্তভাবে চেয়ার থেকে উঠতে উঠতে বললেন- ঘরগুলো ভেঙ্গে ফেলার আদেশটা

অনেক পুরোনো কোন অজুহাতেই আমি এটাকে আর বিলম্ব করাতে চায় না।

আমাকেতো সামগ্রীক ভাবে ব্যাপারটা দেখতে হচ্ছে তায় বিচ্ছিন্ন ভাবে আপনার অনুরোধ রাখতে পারছি না। এটা দায়িত্ব বোধের ব্যাপার। তবে ঠিক আছে আপনার

দিকে তাকিয়ে ঐ বাসাটার জন্য সময় আরো এক সপ্তাহ না হয় বাড়িয়ে দেব। দুঃখ প্রকাশ করে ব্যস্তভাবে তিনি বেরিয়ে গেলেন।

ভাবলাম শহিদ নিশ্চয় আমার উপর ভরসা করে বসে আছে। এক সপ্তাহ সময়

যেহেতু পাওয়া গেছে ওকে বলে আসি যেন একটা ব্যবস্থা করতে পারে।

সময় নষ্ট না করে তাড়াতাড়ি গেলাম ওকে ব্যাপারটা বলতে।

ওর বড় ছেলেটা ঘরের বাইরে দাড়িয়ে। আমাকে দেখে সালাম দিল। কোন অস্বস্তি বা উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ দেখলাম না ওর চোখে মুখে।

জানালো বোর্ড স্কুলের অন্য এক মালির বাসাতে ওরা উঠছে। মালির কোন ছেলে

মেয়ে নেই বউটা একদম একাকী থাকে। মালি কাকার বাসাই উঠলে বরং ওরা খুব

খুশী হবে। ওর বাবা জানিয়েছে যে মালি কাকা নাকি তার বউয়ের অনুরোধেই ওদেরকে ওর ওখানে থাকার জন্য বলেছে।

বাবলু কথাগুলো বলতে বলতে একটা ঠেলা এসে দাড়ালো।

-স্যার আজকেইতো তিন দিন শেষ তায় বাবা মালপত্র সকালেই নিয়ে গেছে। মা

আর বাবা মিলে এতক্ষনে বোধহয় ওগুলো গোজগাজ করে নিয়েছে। যা আছে আমি

ঠেলাই করে নিয়ে যাচ্ছি।

ওরা ঘরের ভিতর ঢুকলো। ও আর ঠেলাওয়ালা মিলে কিছু পোটলা পুটলি আর

পড়ার বই ঠেলায় উঠালো।

-স্যার বাবা আপনার সাথে দেখা করবে। আপনি যা করেছেন আমাদের জন্য। আর

বাবা প্রতিদিন বিকালে এসে আপনার সবজির বাগানে কাজ করে যাবে।

ঠেলাটা রওয়ানা করে বাবলু আমার কাছে এলো, নিচু হয়ে পায়ে হাত দিয়ে সালাম

করলো।

-স্যার, মালি কাকার বাসাটা স্কুলের বাউন্ডারীর ভিতর হওয়াতে খুব সুবিধে হয়েছে।

তাছাড়া মালী কাকার বাসাটা অনেক বড়, আমার পড়াশোনার জন্য সুবিধেই হবে। আমার জন্য একটু দোয়া করবেন।

ওদের গমন পথের দিকে তাকিয়ে আছি।

মনে মনে বিধাতার কাছে মাথা নুইয়ে বললাম- হে বিশ্বব্রহ্মান্ডের মালিক তুমি

প্রকৃতই মহাপরাক্রমশালী। আমরা মনুষ্য ইন্দ্রিয়ের দ্বারা তোমার দানের পরিমাপ

করতে যেয়ে শুধু আমাদের অসারতাকেই প্রমান করি।

ওরা চলে গেল। আমার প্রকান্ড বাসাটা মূক হয়ে দাড়িয়ে রইলো। বুকটা কাপিয়ে

একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসলো।

মনে হলো মালির বাসাটা অনেক বড়, সত্যিই বড়।

Category: Bangla, Short Story

Write a comment