জামার বুক পকেটে জীবন

 

 

শীতটা বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। গ্যারেজ খুলে গাড়ীটা ষ্টার্ট দিয়ে ইঞ্জিনটা একটু গরম হওয়ার

অপেক্ষা করছি। পকেটে রাখা মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলো। পিএ রিং করেছে।

একটু অবাক হলাম। কারন ছুটির দিন এত সকালে রিং করা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার নয়।

আশঙ্কিত হলাম বলা যায়।

ও জানালো- গত রাতে হাসপাতাল থেকে রিং করার প্রেক্ষিতে ইসিজি রিপোর্টটা ও

জরুরী ভাবে নিয়ে এসেছে। পিএ আরো বললো যে রিপোর্টটা দেয়ার সময় ওখানকার মেডিক্যাল

এ্যসিসট্যাণ্ট জানিয়েছে, সার  আপনি যেন  জরুরী ভাবে রিপোর্টটা নিয়ে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করেন।

ঘটনার  আকস্মিকতাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম। আমি অফিসে আসছি বলে জানালাম

ওকে। লম্বা ছুটির প্রথম দিন, রাস্তাটা ফাঁকা। কারটা চালিয়েই প্রায় দশ মিনিটেই অফিসে

পৌছালাম। পিএ অফিসের সামনেই দাড়িয়ে ছিল, ওর কাছ থেকে ইসিজি রিপোর্টটা হাতে নিয়ে অফিসে ঢুকলাম। 

আমি যে চাকুরীটা করি তার ধরণ এরকম যে সময়ে অসময়ে এমারজেন্সি এসে যায়। সময়

অসময় বলতে আমি নিজের প্রয়োজনের সময়ের অসময়ের কথা বলছি। অতএব, শত

প্রয়োজন থাকলেও যে কোন এমারজেন্সিতে ছুটি পাওয়া যাবে না। এধরণের পরিস্থিতির জন্য

সব সময় মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়।

জাতীয় ছুটির সময় যেমন ঈদ, পূজা, বড়দিন ইত্যাদি, এ ধরনের সময়ে যখন পুরো দেশের

মানুষ ছুটিতে নিজ নিজ বাড়ীতে যাওয়ার আনন্দে মাতোয়ারা তখনি দেশের নিরাপত্তার দিক

বিবেচনাায় এ্যমারজেন্সি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তায় এ ধরণের বিশেষ বিশেষ সময়ে

স্বাভাবিক কারণেই আমাদের ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

আমার পরিবারের সদস্যরাও সবাই দিনে দিনে ওভাবেই মানষিক প্রস্তুতি নিতে অভ্যস্ত হয়ে

উঠেছে।

সেবার অনেকটা ভাগ্যের জোরে ছুটিটা মিললো। ছুটিতে কি আনন্দ হবে সেটা পরের কথা। ছুটি হয়েছে, ঈদের ছুটি এই আনন্দেই আমার দুই ছেলে মেয়ে, স্ত্রী আর কাজের ছেলেটা আনন্দে বিভোর।

প্রতি বছরই ছুটিতে বাড়ী যায়। কিন্তু ঈদের ছুটি অনেক বছরের মধ্যে এই প্রথম।

সব আয়োজন সম্পন্ন। পরদিন রওয়ানা হবো। যাবো নিজেদের গাড়ীতে করে। আমি

আর আমার স্ত্রী সামনে আর পিছনে ছেলে মেয়ে আর কাজের ছেলেটা বসবে। ঈদের একদিন

আগে রওয়ানা হবো। ঘরে ফেরা মানুষের ভীড়ে রাস্তা ব্যস্ত থাকবে। তারপর ফেরিতেতো

দেরী হবেই।

কিন্তু সব কিছুর জন্যই প্রস্তুত আমরা। আমার স্ত্রী দীর্ঘ পথের কথা চিন্তা করে গাড়ীতে অনেক

ধরনের খাওয়া দাওয়া নেয়ার ব্যবস্থা করছে। ছেলে মেয়েরা ওদের পছন্দ মত গানের ক্যাসেট

নিচ্ছে। কাজের ছেলেটা একটু ঘুমিয়ে নেয়ার জন্য ওর বালিশটা ভিতরে নেবে বলে

জানিয়েছে। ছেলেমেয়েরা প্রথমে রাজি না হলেও ও নাক ডাকতে পারবে না এই আশ্বাসে মত

দিয়েছে।

মোটামুটি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। গন্তব্যের আনন্দের সাথে ভ্রমনের আনন্দ যুক্ত হয়ে পুরো পরিবার

খুশীতে ডগমগ করছে।

বলতে গেলে আমার যাওয়ার ব্যাপারেও তেমন কোন অনিশ্চয়তা নেই। যদি না এ দুদিনের

মধ্যে কিছু ঘটে যায়। কিন্তু সর্ববিবেচনায় সে সম্ভাবনাও ক্ষীন।

বাৎসরিক পারফরমেন্স রিপোর্টের জন্য প্রতি বছরই নিয়মমফিক কিছু মেডিক্যাল চেক আপ

দরকার হয়। এটা চাকরীর একটা নিয়ম। রিপোর্ট লেখার সময়ও হয়ে এসেছে। কাজের চাপে

মেডিক্যাল চেক আপের জন্য যাব যাব করে হাসপাতালে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। ভাবলাম ছুটি

থেকে এসেই যাব হাসপাতালে। অসুবিধা নেই কারণ এখনো কিছুটা সময় আছে।

ছুটিতে যাওয়ার আগে অজানা এক অলসতার ভূত ঘাড়ে ভর করাতে হাতের বেশ কিছু কাজ এসে 

করবো ভেবে পেন্ডিং রেখেছি। তায় হাতে কাজও একটু কম। ভাবলাম আজ একটু

আগেই অফিস থেকে বাসায় ফিরবো। কিছু কেনাকাটা বাকি আছে ফেরার পথে সেগুলো

সারবো।

পিএ’কে ডেকে জরুরী কিছু আছে কিনা জিজ্ঞেস করতে ও কিছু নেই বলে জানালো। তবে

পারলে বাৎসরিক পারফর্মেন্স রিপোর্টের জন্য হাসপাতালে বিভিন্ন টেষ্টগুলো করাতে দিয়ে

গেলে পিএ এ কদিনে রিপোর্টগুলো সংগ্রহ করে রাখতে পারবে বলে বললো ও।

ভাবলাম প্রস্তাবটা মন্দ না। আর বাসায় ফেরার পথেই হাসপাতাল, ছুটির আগে ভিড় কম

থাকবে তাই বেশী সময়ও লাগবে না।

গেলাম হাসপাতালে। ব্লাড, ইউরিন ইত্যাদি দিতে খুব একটা সময় লাগলো না, সময় একটু

লাগলো ইসিজি করাতে। আমার মত যাদের বয়স চল্লিশের কোটা ছাড়িয়েছে তাদের জন্য এই

অতিরিক্ত চেক-আপ। যাহোক ঘণ্টা খানেকের মধ্যে সব সেরে বাসায় ফিরলাম। পরামর্শের

জন্য মনে মনে পিএ’র তারিফ করলাম।

প্রস্তুতির অবশিষ্ট টুকুও সম্পন্ন হলো। পরদিন ঘুম থেকে উঠে আস্তে ধীরে রওয়ানা হওয়ার

মনস্ত করেছি। ছেলে মেয়ে আর স্ত্রীর পীড়াপীড়িতে খাবার জিনিস আর টুকটাক হ্যান্ড ব্যাগ

বাদে রাতেই সবকিছুই গাড়ীতে লোড করা হলো।

কত আলোচনা আর হাসাহাসি করে বেশ অনেক রাত পর্যন্ত ছেলেমেয়েরা জেগে তারপর ঘুমাতে গেল।

বেশ সকালেই ঘুম ভাঙলো আমার। আমার স্ত্রী কাজের ছেলেটাকে সাথে নিয়ে রান্না ঘরে।

আমি একেবারে প্রস্তুত হয়েই বের হলাম গ্যারেজ থেকে গাড়ীটা বাসার সামনে আনার জন্য। ভাবলাম

ছেলেমেয়ে দুটো ঘুমোচ্ছে ঘুমোক। গাড়ীটা বের করে বাকি সব লোড করে তারপর ওদেরকে ডাকবো।

ইসিজি রিপোর্টটা পিএ’র কাছ থেকে নিয়ে দেখলাম। ম্যাসিনের অংকিত আকা বাকা দাগের

কয়েকটা লাইন। তার সাথে ষ্টাপেল করা ডাক্তারের সাইন যুক্ত ছোট্ট একটা রিপোর্ট। বেশী

কিছু বুঝলাম না তবে এতটুকু বুঝলাম যে এই ছোট্ট কাগজের টুকরোটা আমাদের ঈদের ছুটির

উপর মরন আঘাত হানতে পারে।

সুখ স্বপ্নে বিভোর ছেলেমেয়ে দুটোর ঘুমের কোলে লুটিয়ে থাকা মুখ দুটো চোখের সামনে ভেষে 

উঠলো।

দারুন অসহায় বোধ হলো। মনে হলো পা দুটো অবস হয়ে যাচ্ছে। আমার নিজের কোন অসুস্ততার চিন্তায়  নয়। দুটি নিষ্পাপ প্রাণ সহ আমার স্ত্রী আর কাজের ছেলেটার আশাভঙ্গের আশংকায়।

অফিসের মধ্যে কেউ নেই। একবার ভাবলাম কাগজটা ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে দিই।

যাহোক, মনোস্থির করলাম ছুটিতে আমাকে যেতেই হবে।

কেবল মনটাকে বুঝ দেয়ার জন্য আমার অফিসের সাথেই যে মেডিক্যাল চেক আপ রুম

সেখানকার ডাক্তারের সাথে শুধু পরামর্শ করার জন্য রিপোর্টটা পকেটে করে সেখানে গেলাম।

ডাক্তারের সাথে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনেই রিপোর্টের প্রসঙ্গ উল্লেখ করার পূর্বে

প্রথমে আমার ছুটির প্রস্তুতিটা বর্ণনা করলাম। আরো জানালাম যে কোন কিছুর বিনিময়ে ছুটি

বাতিল না করার ব্যাপারে আমার অসহায়ত্বের কথা।

নীরবে সব শুনে ডাক্তার আমার রিপোর্টটা দেখাতে বললো।

রিপোর্টটা পরীক্ষা করে ডাক্তার আমার দিকে তাকালো। ওর চোখেই ওর ডাক্তারী অসহায়ত্বটা

বুঝতে আমার কষ্ট হলো না।

ওর ডাক্তারী পরামর্শ হলো এটা খুব ছিরিয়াছ বিষয়, তাই তখনই আমাকে হাসপাতালে রিপোর্ট করতে হবে। রিপোর্ট করবার

সাথে সাথেই অনেকগুলো পরীক্ষা নীরিক্ষা শুরু হবে। আর যেহেতু ঈদের ছুটি শুরু হয়ে যাচ্ছে

তায় এ কয়দিনের জন্য আমাকে ভর্তি করেও রাখতে পারে। হার্টের ব্যপার বলা যায় না যে

কোন সময় খারাপ কিছু হতে পারে।

ছুটিতে যাওয়ার ব্যাপারে আমার অনমনীয়তা দেখে কনিষ্ঠ বয়সী ডাক্তার একটু ঘাবড়ে মন্তব্য

করলো যে, আমি যদি ছুটিতে যায়ই আর তেমন কিছু যদি ঘটেই যায় তখন যেন কোন রকমে

ওকে দোষারোপ না করি।

এ ব্যাপারে আমি ডাক্তারকে অভয় দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে বললাম।

নিশ্চিন্ত হয়ে ডাক্তার আমাকে কিছু এমারজেন্সি ট্যাবলেট দিয়ে পরামর্শ দিল- রাস্তায় যদি বুকে

কোন ব্যথা অনুভূত হয় তবে ট্যাবলেটটা সঙ্গে সঙ্গেই খাওয়ার কথা বললো। আর রিপোর্টটা জামার বুক পকেটে রাখতে বললো যাতে করে রাস্তায় কোন ক্লিনিকে যদি যেতেই হয় তাহলে ডাক্তারকে প্রথমেই রিপোর্টটা দেখাতে হবে। রিপোর্টের অবস্থানের ব্যাপারটা আমার স্ত্রীকে জানিয়ে রাখারও পরামর্শ দিল।

অবশেষে ডাক্তার যখন আমি নিজে গাড়ী চালাবো বলে শুনলো তখন একদম বেকে বসলো।

ও কিছুতেই আমাকে গাড়ী চালিয়ে যেতে দিবে না। একজন ড্রাইভার নিতে বললো। ঈদের ছুটি এসময় ড্রাইভার কোথায় পাব। তারপর খোজ করার জন্যওতো সময় দরকার। সর্বপরী ড্রাইভার নিলে মালপত্র নিয়ে গাড়ীতে জায়গা হবে না। আরো ভাবলাম নিজেদের মত করে

যাব এই শেষ মূহুর্তে ড্রাইভার নেয়া প্রসঙ্গটা সবাইকেই বিরক্ত করবে আর বিষয়টা অযথা

আমার স্ত্রীর মনে সন্দেহর উদ্রেগ করতে পারে।

ডাক্তারকে কিছুই বললাম না। অন্য কাউকেও কিছু না বলারও মনোস্ত করলাম। মৃদু হেসে

বিদায় নিলাম। যাওয়ার সময় ডাক্তার বললো কোথাও অসুবিধা হলে ওকে রিং করতে।

রিপোর্টটা বুক পকেটে নিয়ে রওয়ানা হলাম।

গাড়ীতে সবাই গল্পে গানে মজা করছে। আমার মনে হলো জীবনটা বুক পকেটে নিয়ে গাড়ী

চালাচ্ছি।

আমার পাশের গ্লাসটা আধা নামিয়ে দিলাম, শীতল বাতাস চোখ মুখ কপাল বুলিয়ে দিতে

লাগলো। আহ কি প্রশান্তি কি চমৎকার সবকিছুই! সামনে আশেপাশে মানুষ প্রাণী প্রকৃতি যা

দেখছি সব কিছুই আমার প্রাণ ভরিয়ে দিচ্ছে। সবকিছুকে এত ভাল এত সুন্দর এর আগে

কখনো লাগেনি।

মাঝে মাঝে কেবল বাম বুকে হাত রেখে বুক পকেটে রাখা জীবনটা উপলব্ধি করে নিচ্ছি।

দীর্ঘক্ষন গাড়ী চালানোর একঘেয়েমি ভাঙ্গার জন্য রাস্তায় যেখানেই দাড়ালাম আমার

ছেলেমেয়ে স্ত্রী কাজের ছেলেটা সবাইকেই অনেক গভীর ভাবে দেখলাম। এতদিন ধরে

অনেক কিছুই আমার কাছে তুচ্ছ নগন্য মনে হয়েছে কিন্তু এখন তার সবকিছুকেই বিধাতার

একটা একটা অভূতপূর্ব সৃষ্টি মনে হচ্ছে। মনে হতে লাগলো প্রতিটি মানুষ,‌ প্রাণী,‌ লতা পাতা

সব কিছুরই একটা বিশেষত্ব আছে। সৃষ্টির সব কিছুই স্রষ্টার অতি প্রিয়। কোন কিছুই নগন্য

নয়, বিধাতার কোন সৃষ্টিই অযথা নয়। 

ফেরীতে আমার স্ত্রী সবাইকে নিয়ে উপরের ক্যাবিনে চলে গেল। গাড়ীর কাছে থাকতে হবে

জানিয়ে আমি ওদের সাথে গেলাম না।

রেলিং ধরে নদীর দিকে তাকিয়ে দাড়িয়ে আছি। রোদ বেশ চড়া, নোংরা মাছি এসে গায়ে

হাতে বসছে। আজ যেন আমার কোন কিছুতেই বিতৃষ্ণা নেই।

একটা নোংরা গায়ে গন্ধ বৃদ্ধ ফকির এসে হাত পাতলো। ওর সারা শরীরটাতে ঘা আর চুলকানিতে ভরা। অন্য সময় হলে গাটা ঘিন ঘিন করতো, হয়তো তাড়া দিয়ে দূরে যেতে

বলতাম, নয়তো ওর থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য দশ টাকার একটা নোট নিরাপদ দুরত্ত

থেকে ওর হাতের উপর ফেলে দিয়ে নিস্তার পেতাম। কিন্তু এই মুহুর্তে ওর কাছ থেকে

নিস্তার পাওয়ার কোন চিন্তায় মনে আসলো না। আমি আদর করে ওর ঘাড়ে একটা হাত রেখে

বললাম দাড়াও।

দারীদ্রতা ওর শরীরের বয়সটাকে আসল বয়সের থেকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ও

পঁঞ্চাশের কোটা পার করে ফেলেছে নিশ্চিত ভাবেই।

অনেক দিন ধরেই বেচে আছে লোকটা, এ ভাবেই হয়তো আরো অনেকদিন কাটিয়ে দেবে।

কথাটা ভাবতেই বুক খালি করে একটা দীর্ষশ্বাস বেরিয়ে আসলো।

বৃদ্ধ একটু হতবিহবল হয়ে আমার চোখের দিকে তাকালো।

ফেরীর ভাড়া মিটিয়ে হাজার টাকা নোটের অবশিষ্টাংশ তাড়াতাড়ি করে বুক পকেটে

রেখেছিলাম। বুক পকেট থেকে পুরো টাকাটা বের করে না গুনেই ওর হাতে গুজে দিলাম।

আমরা একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে। কি দিচ্ছি আর ও কি নিচ্ছে তার দিকে কারো

খেয়াল নেই।

ও আও আও শব্দ করে কি যেন বলতে চায়লো। বুঝলাম বোবা। তারপর আকাশের দিকে

নজর করে আও আও করতে করতে মানুষ আর গাড়ীর ভীড়ে মিলিয়ে গেল।

বাড়ী পৌছে পরদিন উৎসব আনন্দ শেষ করে মনে হলো ছুটির মধ্যে কোন বিশেষজ্ঞকে দিয়ে

বুকটা পরীক্ষা করিয়ে নিব। কিন্তু রিপোর্টের কাগজটা বুক পকেটে খুজে পেলাম না।

বুঝলাম টাকার সাথে ও রিপোর্টটাও নিয়ে গেছে।

যাব যাব করে ডাক্তারের কাছে আর যাওয়া হলনা। ছুটি থেকে ফিরে নতুন করে ইসিজি

করালাম, সব ঠিকঠাক রিপোর্ট আসলো।

আজ পর্যন্ত আমার বুক নিয়ে নতুন কোন ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

তবে জীবনটা বুক পকেট থেকে আর নামায়নি!

Category: Bangla, Short Story

Write a comment