মেনে নেয়া

 

 

 

ছোট শহরের এক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অংকের শিক্ষক অমর। ওর সারাদিনের কর্মসূচিটা একটু লম্বা। সকালেই বেরিয়ে যায় বাড়ী থেকে আর ফিরতে রাত হয়।

বাড়ীটা শহরের কাছাকাছি বলা যাই। বাস ধরে স্কুলে পৌছাতে সব মিলে প্রায় ঘণ্টা খানেক লাগে। ষাড়ে সাতটায় স্কুল শুরু হয়, তায় বাড়ী থেকে অনেক সকালে বেরুতে হয় ওকে। বাচ্চারা সবাই ঘুমিয়ে থাকে তখন।

ওর স্ত্রী অধরা। বিএ পাশ করার পর পরই বিয়ে হয়েছে ওদের। খুব সংসারী, দরদী এবং স্বামী সন্তাদের প্রতি নিবেদিত। বলতে গেলে টাকা উপার্জন করা ছাড়া যাবতীয় অন্য সব ব্যাপারে অমর ওর স্ত্রীর উপর পুরোপুরিই নির্ভরশীল।

অমরের জীবনে ওর স্ত্রী অধরার কোন বিকল্প নেই।

অধরা প্রতিদিন খুব ভোরে সবার আগে ঘুম থেকে উঠে অমরের নাস্তা আর দুপুরের খাবার তৈরী করে ফেলে। অমর নাস্তা খেতে খেতেই অধরা দুপুরের খাবার টিফিন ক্যারিয়ারে সাজিয়ে দেয়।

প্রতি দিন মুচকি হেসে টিফিন ক্যারিয়ারটা হাতে নেয় অমর। সেদিনের জন্য কি খাবার দিয়েছে সেটা সব সময়ই গোপন রাখে অধরা।

দেড়টার সময় স্কুল ছুটি হলে অমর টিচার্স রূমে বসেই দুপুরের খাবারটা খেয়ে নেয়। অধরার সমস্ত কল্পনা ঢেলে দিয়ে তৈরী নতুন নতুন খাবার তালিকা কর্মক্লান্ত অমরের জন্য প্রতিদিনই একটা মধুর চমক এনে দেয়।

খাবার শেষে অমর ওই চেয়ারে বসেই একটু আড়ামোড়া করে নেয়।

অধরার কথা ভাবে। ওর কাছে অমর বিশেষ ঋণি। ওকে ছাড়া অমর অসম্পূর্ণ, অচল।

শহরের একজনের বাসায় একটা রুমে বিকাল তিনটে থেকে ব্যাচে ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট পড়ায়। রুমটা প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা ব্যবহারের জন্য ভাড়া নিয়েছে অমর।

দুটো ব্যাচ পড়িয়ে শেষ করতে সন্ধ্যা ছয়টা ষাড়ে ছয়টা বেজে যায়। তারপর বাড়ী ফিরতে কোন কোন দিন রাত নটা বাজে।

মোটকথা বলা যায় ভোরে বাড়ী থেকে বেরোনোর সময়ও বাচ্চাগুলো ঘুমিয়ে থাকে আবার ফিরেও অধিকাংশ দিন ওদেরকে ঘুমানো অবস্থায় পায়। বলতে গেলে বাচ্চাদের সাথে কেবল সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই ভালোভাবে কথা বা দেখা হয় অমরের।

কাজের তাগিদেই ছেলেমেয়েদের সাথে অমরের সম্পর্কটা উষ্ণ নয়। ওদের সব কিছুই ওদের মা দেখাশোনা করে।

অমর ভাবে -কত সময় পাওয়া যাবে ওদের সাথে ভাব করার।

– কি করবে অত টাকা পয়সা দিয়ে, অমর? ওর সহকর্মীরা অনেক সময় ঠাট্টা করে বলে।

সত্যি কথা বলতে অত টাকা পয়সা ওর চার জনের সংসার চালানোর জন্য দরকার হয় না। বেতন যা পায় তাতেই ভালো ভাবে সংসার চালিয়েও কিছু বাড়তি থাকে।

কিন্তু অমর আর ওর স্ত্রী আরেকটু দূরে তাকায়। তায়তো বাড়তি কষ্ট। আর এই বাড়তি আয়ের টাকার উপর ওরা সপ্ন দেখে, পরিকল্পনা করে।

রাতে ফিরে খাওয়া দাওয়া শেষ করে ক্লান্ত দেহটা বিছানায় এলিয়ে দিয়ে ওরা স্বামী স্ত্রী পাশে ঘুমিয়ে থাকা ছেলে মেয়েদের নিয়ে ওদের পরিকল্পনাগুলো আলোচনা করে -আমরা যা করছি সবইতো ওদের জন্য।

বেতনের বাড়তি টাকা ছাড়াও অমরের টিউশানি থেকে আয়ের সব টাকায় ওরা ব্যংকে জমিয়ে রাখে। এ গুলোর হিসাবও অধরার কাছে।

আর বছর দুই বাদেই বড় মেয়েটার স্কুলে যাওয়ার সময় হবে। তার আগেই ওরা শহরে স্কুলের পাশে  একটা বাসা ভাড়া নেবে। ছেলেমেয়েদেরকে শহরের ভালো স্কুলে পড়াবে। অমরের প্রতিদিন যাতায়াতের এই ঝুকিটাও আর থাকবে না।

তখন মাসিক খরচ একটু বেড়ে গেলেও অসুবিধা নেই, জমানো টাকাতো আছেই। তাছাড়া ছোট ছেলেটার  স্কুলে যাওয়ার বয়স হলেই অমরের স্ত্রীও কোন একটা স্কুলে চাকরী নেবে।

এ সব পরিকল্পনার স্বপ্ন দেখতে দেখতে ক্লান্ত দেহে ওরা ঘুমিয়ে পড়ে। 

রাতে ঘুমের মধ্যে কথা বলা ওদের সবারই একটা বদ অভ্যাস। এ নিয়ে মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে হাসা হাসিও হয় মাঝে মধ্যে।

বচ্চারা সাধারণত ওদের খেলার সাথিদের সাথে মারামারি কাড়াকাড়ি নিয়ে আর কালামের স্ত্রী দুটো ছেলেমেয়েকে স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরী করা, অমরকে নাস্তা দেয়া ইত্যাদি ব্যাপারে কথা বলে।

কিন্তু অমর মাঝে মধ্যে ঘুমের ঘোরে কেবল অধরা অধরা বলে ডেকে ওঠে।

বইয়ের পাতাই  আকা ছবির  মত হাসিখুশি ভরা জীবন ওদের। 

সেদিন স্কুলের ছুটির ঘণ্টাটা বেজেছে সবে মাত্র। অমর টিচার্স রুমে বসে ওর স্ত্রীর মমতায় ভরা টিফিন ক্যারিয়ারটা ড্রয়ার থেকে বের করলো।

আহ মনে হচ্ছে খাবার গুলো এখনো গরম।

ওর সহকর্মী একজন শিক্ষক খাতাপত্রগুলো গুছিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে নিতে ঠাট্টা করে বললো -কি অমর যাদুর বাক্সটা খোলার সময় হলো?

মুচকি হাসলো অমর । আসলেই এটা যাদুর বাক্স। প্রতিদিন ভোর রাতে উঠে ওর স্ত্রী নানা কল্পনার সাথে মনের মাধুরী মিশিয়ে যাদুর বাক্সটা ভরে দেয়। ঢাকনাটা না খোলা পর্যন্ত ওটা রহস্যময় হয়ে থাকে অমরের কাছে।

টিফিন ক্যারিয়ারটার সারা গায়ে মাখানো অধরার ছোয়া আর ভিতরে ওর নানা কল্পনার নির্যাস ভরা খাবারের তালিকা প্রতিদিনই নতুন ভাবে অমরকে অবাক করে। সমস্ত ক্লান্তি দুর করে চাঙ্গা করে তোলে ওকে।

সেদিন অমর ঢাকনাটা খুলবে এমন সময় অফিসের পিয়ন ছুটে আসলো। 

হেডমাষ্টারের মোবাইল ফোনে তাকে কে একজন জানিয়েছে- অমর স্যারের স্ত্রীর খুব খারাপ কিছু একটা হয়েছে!

সব ফেলে দৌড়ে গেল অমর। পৃথিবীটা থমকে দাড়ালো অমরের সামনে।

দুই দুটো অবুঝ কচি কচি ছেলেমেয়ে রেখে অমরের বউটা মারা গেল। বাচ্চা দুটো কেউই ঠিকমত বুঝলো না কি হারালো ওরা।

বড় মেয়েটা বোধহয় বুঝলো মা মরে গেছে, একটু কাদলোও অন্যান্যদের কান্না দেখে। ছোটটা মা বেচে থাকতে কারণে অকারণে যা একটু আধটু কাদতো, কিন্তু এখন এত সব দেখে কান্নাকাটি ভূলে হতবিহবল  হয়ে রইলো।

সংবাদটা শোনার পর বিলাপ করতে করতে অমর জ্ঞান হারালো।

কিছুক্ষন বাদে জ্ঞান ফিরে পেতেই আবার বিলাপ করতে শুরু করলো অমর। জ্ঞানটা হারালেই ওর জ্বালা  যন্ত্রনার উপশম হয় কিন্তু জ্ঞানটা ফিরলেই আবার একই অবস্থা। নির্মম বাস্তবতাকে কিছুতেই মানতে পারছিলো না অমর। 

এ রকম চলতে থাকলে ওর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। সে আশংকায় ডাক্তার অমরকে ইংজেকশান দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখলো।

মানুষ কত ভাবেই মারা যায়। রোগ ব্যাধি, দুর্ঘটনা, যেমন গাড়ী চাপা, ঘর ভেঙে পড়া এমন কি আত্মহত্যা। সে সব মৃত্যুর জন্য কাউকে না কাউকে দায়ী করা যায়।

কিন্তু অমরের বউয়ের মাথায় আকাশ থেকে বাজ পড়ে সে একদম জায়গায় মারা গেল!

সেদিন সকাল থেকেই বৃষ্টি নেমেছিল আকাশ কালো করে। অধরা বসত বাড়ীটার সাথে লাগানো মাঠে বাধা গরুটা আনতে গেল। ফিরলো লাশ হয়ে।

কি হারালো, কি রেখে গেল তার কোন কিছুই বোঝার সুযোগই পেল না অধরা।

আপন মানুষগুলো কাকে দোষারোপ করবে ওর মৃত্যুর জন্য!

এটা কি শাস্তি! তাহলে কিসের শাস্তি ওর!

শাস্তি যদি কারো হয় তাহলে তাতো ওর রেখে যাওয়া বাচ্চাগুলোর আর বেচারা অমরের।

ওতো চলে গেল, কিছু বুঝে উঠার আগেই। যাদের রেখে গেল তাদের মধ্যে যে বুঝলো কি হারাল, সেও তার ভার বহন করতে না পেরে, না বোঝার ছাতাটা খুলে তার নিচে আশ্রয় নিল।

যা ঘটলো তা মেনে নিতে না পারায় অমর মুর্ছা গেল এবং ওকে বাচিয়ে রাখতে ডাক্তার ওর অজ্ঞান করে রাখার ব্যবস্থা করলো। 

কিন্তু এর জন্য কোন কিছুই থেমে থাকলো না। প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজন সবাই মিলে অধরার ছিন্ন বিছিন্ন মরদেহটা সমাহিত করলো।

সবাই পাশে এসে দাড়ালো। আদর করে অমরের ছোট ছেলে মেয়ে দুটোর খাওয়া আর ঘুমানোর ব্যবস্থা করলো। নতুন নতুন দু একটা খেলনা ওদেরকে আবার নিজ নিজ স্বপ্নের জগতে ফিরিয়ে  নিয়ে একটু আধটু হাসতেও সাহায্য করলো।

অমরকে বাচিয়ে রাখার জন্যও খাওয়া আর ঘুমের প্রয়োজনটা অস্বীকার করা গেল না। তবে সেগুলো ওর অনিচ্ছায় এবং অজান্তে সরু নলের ভিতর দিয়ে ওর শরীরে প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা করা হলো।

অমর চিরাচরিত নিয়মের সাথে কিছুতেই খাপ খাওয়াতে পারলো না। তায় ওকে সরকারী হাসপাতালে স্যলাইন লাগানো অবস্থায় নার্সের প্রহরায় ঘুম পাড়িয়ে রাখা হলো।

হাসপাতালের একটা কক্ষে অমর অঘোরে ঘুমিয়ে। ওর স্ত্রীর মাথায় বাজ ফেলা বৃষ্টিটা তখনো ঝরছে। সেদিন থেকেই আকাশটা মুখ ভার করে আছে। গত রাতে আকস্মিক ভাবে ঝড় এসে গাছ পালা বাড়ী ঘর অনেক কিছুই ভেঙ্গে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেছে। কারেণ্টের তার ছিড়ে সে রাত থেকেই সব কিছুই অন্ধকারে নিমজ্জিত।

এক তলা হাসপাতালের জানালার পাশে অমরের বেডটা। তখন দিন, কিন্তু বাইরে দেখে বেলা কত হল বলা কঠিন। খোলা জানালা দিয়ে ঠান্ডা বাতাস তার পরশ অমরের চোখে মুখে বুলিয়ে দিতে লাগলো।

অমরের বোধহয় জ্ঞান ফিরলো। 

আগের থেকে ভালো শরীরটা। জানালা দিয়ে তাকালো অমর। বাইরেটা একদম নির্জন। অনেক গুলো আম কাঠালের গাছ দেখা যাচ্ছে। 

ঝড়ে অনেক গাছের ডালপালা ভেঙ্গে নিচে পড়ে আছে। ডালগুলো এখনো কাচা। গত রাতেই ভেঙ্গেছে। ভাঙা ডালগুলোতে  কচি সবুজ পাতার ফাক দিয়ে দুএকটা আমের মুকুলও উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে।

আহ ডালগুলোতে আরো কত মুকুল আসতো, আম হতো! সবে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। প্রতি বছর এ সময়টাতেই ঝড় হয়। গাছের শাখায় শাখায় মুকুলের উঁকি ঝুঁকি, ঝড়টা কত উঁকি দেয়া সম্ভাবনা মুকুলেই নষ্ট করে দেয়! আনমনে ভাবলো অমর। 

মৃদু বাতাসে সদ্য ডালপালা হারানো গাছের কচি পাতা গুলো দুলছে। তার উপর মাঝে মাঝে মেঘভাঙ্গা রোদের ঝলক পড়ে মনে হচ্ছে সেগুলো হাসছে।

হটাৎ করে অমরের নজরে পড়লো ঝড়ে একটা পাখীর বাসা ভেঙ্গে পড়ে আছে। ডিম দুটোই ভাঙ্গা, ভিতরে বাচ্চা দুটোও বেশ বড় হয়েছিল। ডানা মাথা সবই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। আর কয়েকদিন পরেই বাচ্চা দুটো ডিম ফুটে বের হতো।

মায়া লাগলো অমরের ।

অসময়ের ঝড়টা সব লন্ড ভন্ড করে দিল!

একটা চাপা নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসলো অমরের বুকটা কাপিয়ে।

একটা পাখি এসে বসলো মরে পড়ে থাকা বাচ্চা দুটোর পাশে। শালিক পাখি। মনে হলো কি একটা যেন খুজছে।

ওরই বাচ্চা বোধহয়, দেখতে এসেছে। ভাবলো অমর।

একটু বাদেই পাখিটা পাশেই জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ছোট ছোট ডুব দিয়ে চটপট স্নান করে নিল। ঝড় বৃষ্টিতে বোধহয় ওর গায়ে লেগে যাওয়া কাদা মাটি ধুয়ে ছাপ করে নিল। ভাবলো অমর ।

স্নান সেরে ডালের ফাক দিয়ে উকি দেয়া এক চিলতে রোদে ডানা ঝাকি দিয়ে গাটা শুকিয়ে নিল পাখীটা। বেশ ফুরফুরে দেখাচ্ছে ওকে। 

গাছের শাখায় শাখায়, কচি পাতায় পাতায় আর পাখীর ডানায় রোদের ঝিকি মিকি অমরের মনটা ভরিয়ে তুললো।

ভারী ভালো লাগলো সবকিছু অমরের।

পায়ের শব্দে সম্বিত ফিরে পেয়ে ফিরে তাকালো অমর ।

দরজায় দাড়িয়ে ওর কচি কচি দুটো ছেলে মেয়ে। সবাইকে হাসি খুশি ফুরফুরে লাগছে। পাশে দাড়িয়ে ওর স্ত্রী অধরা।

কিচ্ছু বুঝে উঠতে পারল না অমর। নিজের দিকে তাকালো ও। স্যালাইন লাগানো হাত ইত্যাদি দেখে চট করে মনে পড়লো সব ওর। 

কিন্তু একি অধরা কোথা থেকে আসলো!

ওকে হতভম্ব দেখে বড় মেয়েটা দৌড়ে এসে ওর বুকের মধ্যে মুখ লুকালো।

-বাবা অঝরা খালা এখন থেকে আমাদের সাথে থাকবে।

অধরার যমজ বড় বোন অঝরা, শিক্ষকতা করে শহরের একটা স্কুলে। দুই বোনের চেহারা একই রকম।  অঝরা কলেজে পড়ার সময় কি একটা অসুখের কারণে বন্ধ্যা হয়ে যায় তায় আর বিয়ে করে সংসার করেনি। শহরে একটা মহিলা হোষ্টেলে থাকে। ঠিক হয়েছিল অমর শহরে বাসা নিলে অঝরা ওদের সাথেই থাকবে।

-অমর চিন্তা করো না বাবা, খোদা যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। অধরা আমার খুবই ভাগ্যবতী মেয়ে, না হলে খোদা এ ভাবে নিজে হাতে ওকে তুলে নিবেন কেন। তোমারতো এই অবস্থা কিছুই দেখলে না। কত যে মানুষ এসেছিল ওর জানাযায়। মৃত্যুতো সবারই হবে কিন্তু এমন সুভাগ্য আমার মেয়েটার।

ধরা গলায় কথাগুলো বলতে বলতে ওর শশুর শাশুড়ীকে নিয়ে প্রবেশ করলেন।  ছোট ছেলেটাকে কোলে নিয়ে অঝরা এসে দাড়িয়েছে ওর বেডের পাশে। 

ততোক্ষণে আকাশ থেকে সব মেঘ সরে বাইরেটা আলো ঝলমল করছে। একটা সাথি পেয়ে সব মেনে নিয়ে  নতুন করে শুরু করার জন্য শালিকটা গাছের ডালে  কিচির মিচির শুরু করেছে। 

Category: Bangla, Short Story

Write a comment