সত্যান্বেষণ – জীবনের চূড়ান্ত সত্য

(অনূদিত)

 

 

 

অনেক বছর ধরে সত্যান্বেষণে রত একজন অনুসন্ধানকারীকে আধ্যাত্মিক আওয়াজের মাধ্যমে তার প্রশ্নের উত্তরের জন্য একটি গুহার কাছে যেতে বলা  হল।

-জীবনের চূড়ান্ত সত্য কি তা ওই গুহার কাছে জিজ্ঞাসা করুন। আধ্যাত্মিক আওয়াজের মাধ্যমে তাকে পরামর্শ দেওয়া হল। বলা হল যে ঐ গুহাই আপনার জিজ্ঞাসার উত্তর দেবে।

গুহাটি খুঁজে পেয়ে, সত্যান্বেষণী তার মৌলিক প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করল।  গভীর গুহা থেকে উত্তর আসলো -গ্রামের চৌরাস্তাতে যাও, সেখানে তুমি যা খুঁজছো তা পাবে।

আশা এবং প্রত্যাশায় ভরপুর লোকটি গ্রামের চৌরাস্তায় ছুটে গেল। সেখানে কেবল তিনটি জীর্ণশীর্ণ দোকান দেখতে পেল; একটি  দোকানে ধাতব টুকরা, অন্য দোকানে

কাঠ আর তৃতীয়টিতে পাতলা তামার তার বিক্রি করা হচ্ছিলো। তার সত্যান্বেষণের সাথে এগুলোর কিছুই করার নেই বলে মনে হল। 

হতাশ সত্যান্বেষণী গুহার কাছে ফেরত এসে এসব অর্থহীন জিনিসের মানে জিজ্ঞেস করল।

-আপনি ভবিষ্যতে এগুলোর অর্থ বুঝতে পারবেন। গুহাটি পুনরাই উত্তর দিল। সত্যান্বেষণী লোকটি এবার চিৎকার করে  প্রতিবাদ করলে গুহা আর কিছু বলল না, সে কেবল গুহার ভিতর থেকে তার নিজের চিৎকারের প্রতিধ্বনি শুনতে পেল।  

তাকে এভাবে বোকা বানানোর জন্য রেগে গিয়ে সত্যান্বেষণী তার সন্ধান কাজে রত থাকার জন্য আবার যাত্রা শুরু করল।  

এভাবে বছর পেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে গুহার কাছ থেকে লব্ধ তার অভিজ্ঞতার স্মৃতি ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে গেল। একদিন চাঁদনি রাতে হাটার সময় দূর থেকে ভেসে আসা সেতার সংগীতের সুর সত্যান্বেষণীর মন আকর্ষণ করল। এটি মনকাড়া সংগীত ছিল এবং এটি দুর্দান্ত দক্ষতা এবং অনুপ্রেরণার সাথে বাজানো হচ্ছিলো।

সত্যান্বেষণী এক গভীর আকর্ষণে সেতার বাদকের কাছে গেল। সেতারটি বাজানোর মধ্যে নিমগ্ন বাদকের আঙ্গুলের দিকে তার দৃষ্টি নিবদ্ধ হল। পুরো বাদ্য যন্ত্রটির দিকে সে খেয়াল করতে লাগলো। তারপর হঠাৎ সে আনন্দে চিৎকার করে উঠলো: সেতারটি তার, ধাতব এবং কাঠের টুকরো দিয়ে তৈরি যেমনটি সে তিনটি দোকানে অনেকদিন পূর্বে একবার দেখেছিল এবং মনে করেছিল যে সেগুলোর কোন বিশেষ তাত্পর্য নেই।

শেষ পর্যন্ত সে গুহা থেকে নির্গত বার্তাটির তাৎপর্য বুঝতে পারলো:

আমাদের যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছু দেওয়া হয়েছে: আমাদের কাজটি হল সেগুলোর যৌগ তিরি করে উপযুক্ত ভাবে ব্যবহার করা। এ পৃথিবীর কোন দ্রব্য সামগ্রী পৃথক পৃথক ভাবে অর্থবহ হয় না। পৃথক পৃথক দ্রব্য গুলো সংশ্লেষণ পদ্ধতিতে একত্রিত করার পর একটি নতুন জিনিসের জন্ম হয় যার উপযোগিতা সংশ্লেষণের পূর্বে পৃথক পৃথক থাকা মৌল দেখে অনুমান করা যায় না। 

Category: Bangla, Moral Stories

Write a comment