অমৃতগড়ের যাত্রী

 

 

 

অমৃতগড়ের যাত্রী ওরা সবাই। নদীটার এপারে ওরা, পার হলেই অমৃতগড়। আহ সবার চিরস্থায়ী আবাস!  আর এটাই প্রতিটি জীবনের শেষ আকাংক্ষা!

নদীর পাড়ে পৌঁছে গেছে সবাই। যেতে সবার হবেই! তায় সবাই নিজের মত করে প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে। ফেরীটাতে উঠতে পারলেই জীবনভর আশার শেষটা ওদের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।

অপেক্ষা কেবল ফেরীর। যাত্রী ওরা পাঁচ জন।

বেলা গড়িয়ে গেছে, সন্ধ্যে হতে আর দেরী নেই। ঘাটটা শূণ্য, ছোট্ট জীর্ণ একটা নড়বড়ে ঘর ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না আশেপাশে।

যত কষ্টই হোক না কেন এখানে বসেই নিজের মত করেই বাকি সময়টুকু পার করে দেবে বলে সবাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এত কষ্ট করে পাড় পর্যন্ত যখন পৌঁছে গিয়েছে তখন আর কি, ফেরীটা এখন আসলেই হয়।

কিন্তু বাদ সাধলো প্রকৃতি। হটাৎ করে আকাশে মেঘের ঘনঘটা, থেকে থেকে বাতাসের ঝাপটা আর সেই সাথে দাঁত বের করা বিদ্যুতের ঝলকানি। চিন্তার রেখা ফুটে মুখের উপর। কিন্তু ওরা জানে এখানে বেলা শেষে এরকম হয়। 

জরাজীর্ণ ঘরটাই একমাত্র সম্বল এ ঘাটে। নিজের আর অন্যান্য যাত্রীদের দিকে সবাই একটু চাওয়া চাওয়ি করে নিলো।

কি করা যায়!

ওদের মধ্যে এক জন পাখি প্রেমিক। সাথে ছোট্ট খাঁচায় ভরা একজোড়া প্যাঁচা। দেখার  মধ্যেই  বোধহয় মনের সব থেকে বড় প্রশান্তি। বড় বড় চোখ দুটো মেলে আশে পাশের সবকিছু দেখছে খুটিয়ে খুটিয়ে- আকাশ, নদী, খোলা মাঠ সব কিছু। এক অপূর্ব সুর মূর্ছনায় পড়ন্ত বেলায় সবকিছুই অপরুপ হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে যাবার আগে এত কিছুর একটি বিন্দু বিঃসর্গও যেন বাদ দিতে চায় না ও। কিন্তু প্রকৃতির এই বিরুপতা সহ্য করা ওর ক্ষমতার বাইরে। 

খাঁচাটা হাতে তুলে নিয়ে পা বাড়াতেই প্যাঁচা দুটো পাখা ঝাপটালো, ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে আওয়াজ করলো। যেতে মন চাচ্ছে না। কিন্তু ওর মালিক সিদ্ধান্তে অনড়। খাঁচা হাতে ঘরটাতে ঢুকলো সে।

দ্বিতীয়জনের সাথে দুটো খরগোস। নির্লিপ্ত কিন্তু কান দুটো খাড়া করে আছে।  শোনার মধ্যেই যেন যত আনন্দ। ওরাও মনে হচ্ছে এপাড় ছাড়ার পূর্ব মুহুর্তে বাতাসের স্যাঁ স্যাঁ শব্দ, নদীর কুল কুল ধ্বনি, গাছের ডাল পাখী যে যা কিছু বলছে তার সবটুকুই শুনতে উদগ্রীব। ওরাও আবহাওয়া কাতর তাই ওদের মনিবও জরাজীর্ণ ঘরটার ভিতর যাওয়ার মনস্ত করলো। যাওয়ার জন্য খাঁচাটা  তুলতেই খরগোস দুটোও চঞ্চল হয়ে উঠলো। নিরিহ প্রাণী! মনিবের ইচ্ছার অধীন ওরা। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ওদেরকে যেতেই হলো।

তৃতীয় জনের সাথে একজোড়া অতিকায় আকারের কুকুর। ঘুরে ঘুরে আশে পাশের মাটি, ঘাস শুঁকে শুঁকে প্রকৃতির ঘ্রান নিতে ব্যস্ত।  ঘ্রান নিলেই  যেন সব কিছু পরখ করে নেয়া যাই।  প্রভু ভক্তিতে কুকুরের কোন প্রতিদ্বন্দি নেই। বৃদ্ধ বয়সে কুকুরের মত একজন নিঃস্বার্থ সাথি পাওয়া সত্যিই দুস্কর। মেঘের ঘনঘটা গুড়গুড়ুনি, ঝাপটা বাতাস ছিটে ফোটা বৃষ্টি ইত্যাদি প্রকৃতির কোন সংকেতই যেন ওদের নিমগ্নতা ভাঙতে পারছে না। ওরা যেন ওদের নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে প্রকৃতির সব ঘ্রানের  আশ্বাদন গ্রহনে নিমগ্ন। মনিবের টানাটানিতে একান্ত অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ওদেরকেও এ জায়গা ছাড়তে হচ্ছে।

চতুর্থ  জনের কাছে সাপের দুটো ঝাকা, এ আবহাওয়াই সাপগুলো জড়সড় হয়ে আছে ঝাকার ভিতর। ভীষণ আবহাওয়া কাতর ওরা। চর্মের সুখই যেন জীবনের সবকিছু।  অন্য সকলের মত জন্ম থেকেই এ বিষধর প্রাণীর সাথে ওর ভালোবাসা। সাপ অন্য সকলের কাছে যতই ভয় অবিশ্বাস বা অকল্যাণের প্রতিক হোক না কেন পূর্বপুরুষদের মত এরাই ওর জীবন জীবিকা। ভীতু প্রাণী, ওদের ইচ্ছা অনিচ্ছা মনিবের কোন বিবেচনার বিষয়ই না। ঝাকা দুটো তুলে নিয়ে সেও প্রবেশ করলো ঘরটাতে।

ছোট্ট জরাজীর্ণ ঘরটা। বড় কোন প্রাকৃতিক রোষের সামনে টিকতে পারবে বলে ভরসা কম। কিন্তু এখানে অবস্থান খুবই অল্প সময়ের জন্য। কেবলইতো ফেরীটা আসার অপেক্ষা।

ছোট্ট ঘরে একে ওপরের দিকে সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকালো ওরা।

বিভিন্ন প্রকারের পশুই ওদের জীব্য। ওগুলো পূরুষানূক্রমে প্রাপ্ত সবারই। এদেরকে পোষ মানিয়ে জীবিকা অর্জনেই ওদের সময় শেষ হয়ে গেছে। তায় যে যার বংশানুত্রমে প্রাপ্ত পশু নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

ওপারে যাওয়ার ফেরীর কথা জানে ওরা সবাই। ফেরীটার সময়সূচি, ওটার ধারনক্ষমতা বা টিকিট কাটার পদ্ধতি ইত্যাদি সম্মদ্ধে খুব একটা খোজখবর নেয়নি কেউ। পশু নির্ভর হয়ে ওগুলোর দেখভাল করতে করতেই  জীবন কাটিয়ে দিয়াছে। ফেরীর খোজ খবর নেয়ার সময় ও সুযোগ কোনটাই ওদের মেলেনি। 

বেশ কিছু সময় ধরেই ওরা এপারে অপেক্ষা করছে কিন্তু ফেরীর দেখা মেলেনি। ওদের নেয়ার জন্য ফেরী আসবেই তা জানে ওরা। তায় অতো চিন্তা নেই,  ফেরীটা আসলেই হলো। 

এই দুর্যোগের মধ্যে যদি একটুখানি বিশ্রাম নেয়া যায় সে আশাতেই সাথের পশুগুলোর অনিচ্ছা সত্ত্বেও ওরা এই জরাজীর্ণ ঘরটাতে আশ্রয় নিয়েছে।

সবার মধ্যেই একটু দ্বিধা ও ইতস্ততঃ ভাব পরিলক্ষিত হলো। ওদের তুলনায় সাথের পশুগুলো বরং একটু বেশী সচেতন। কেউ বা ডানা ঝাপটা দিয়ে, কেউ গ্যোঁ গ্যোঁ, ঘেউ ঘেউ বা ফোঁস ফোঁস করে অস্বস্তি

প্রকাশ করতে লাগলো। সাথের পশুগুলোর অস্বস্তিই মালিকদের দ্বিধাটা মনে হলো একটু বাড়িয়ে দিল।

কিন্তু নিরুপায় ওরা। সবাই শতছিন্ন বেড়ার ফাঁক দিয়ে বাইরের প্রকৃতির অবস্থা আঁচ করার চেষ্টা করলো। বাইরে ভয়ঙ্কর শব্দে মেঘের ডাক আর আকাশ চিরে বিদ্যুতের ঝলকানি যেন ধমক দিল ওদেরকে।

প্রকৃতির ইচ্ছার কাছে নিজেদের এবং সহগামী পশুদের অনিচ্ছাকে সমর্পন করে অবুঝ ইন্দ্রীয়তাড়িত পশুগুলোকে একে অপরের থেকে যথাসম্ভব দূরে দূরে রেখে ওরা নিজেদের মধ্যে আপাততঃ সহবস্থানের

অলিখিত চুক্তিতে আবদ্ধ হলো বলে মনে হলো।

আকাশে মেঘের আনাগোনা বেড়েই চলেছে। দমকা বাতাসের সাথে মাঝে মধ্যে আকাশের বুকচিরে অবিরাম বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো। ওরা চারজন যাত্রীই বেশ সতর্কতার সাথে নিজ নিজ পশুগুলোকে নিজেদের আয়ত্তে রেখে নির্লিপ্তে বসে।

পঞ্চম যাত্রী তখনো বাইরে। ঘাটে এসেছেন সবার পরে। বেশভূষায় বেশ পরিপাটি এবং চালচলনে খুবই আত্মপ্রত্যয়ী বোঝা যায়। তিনি বেশ ঘনঘন আকাশের দিকে তাঁকাচ্ছেন। মনে হয় বৃষ্টিটা আসবে কি আসবে না সেটা আঁচ করার চেষ্টা করছেন।

কালো মেঘে আকাশটা ছেয়ে ফেলে সূর্য ডোবার আগেই অন্ধকার নেমে এসেছে। পকেট থেকে একটা ছোট টর্চ বের করে কুট করে লাইট জ্বেলে ঘড়িটা দেখে নিলেন। ফেরী আসতে কত দেরী সেটা বোধহয়

আঁচ করার চেষ্টা করলেন।

বোঝা যায় খুব হিসেবী তিনি।

দু এক ফোটা করে বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো। তিনি সাথে রাখা ব্যাগ থেকে একটা রেইনকোর্ট বের করে সেটা বেশ যত্নের সাথে পরে নিয়ে মাথাটাও ঢেকে নিলেন। বোঝা যায় ভদ্রলোক অংক কষে সব হিসাব

করে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েই এসেছেন।

আশ্রয় নেয়ার মত একমাত্র সম্বল জীর্ণদশা ঘরটা ভদ্রলোকের বেশভূষা আর পছন্দ অপছন্দের সাথে চাক্ষুস ভাবেই বেমানান। তিনি অপেক্ষার সময়টা বাইরেই কাটাবেন বলে মনস্ত করলেন বলে মনে হলো। 

কিন্তু বাদ সাধলো ওর সহগামী পশুগুলো। তার সাথে তিনটি তিন ধরনের প্রাণী। স্বভাবগত দিক দিয়ে প্রাণী তিনটিই হিংস্র হলেও সেগুলো ওর পোষ মানানো। একটা ভালুক, সিংহ আর বাঘ। ওর

পাশেই নিজ নিজ দেহসৌষ্ঠব প্রদর্শন পূর্বক দাড়িয়ে। সকলের সামনে আলাদা আলাদা ভাবে রাখা মাংসের স্তুপ থেকে চিবিয়ে চিবিয়ে সেগুলো গিলছে। উপর নিচে বা আশে পাশে কোন দিকেই খেয়াল নেই

ওদের। দারুন ক্ষুধার্ত ওরা, তবে নিজেদের ব্যাপারে খুবই আত্মপ্রত্যয়ী। ওদেরকে শান্ত রাখার জন্য ওদের মনিব পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও রেখেছেন বোঝা যায়। 

বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো। মনিব তাতে খুব একটা বিরক্ত বা আশ্চর্য হলেন বলে বোধ হলো না, কারণ আবহাওয়ার হাবভাব সম্পর্কে তিনি খোজ খবর নিয়েই এসেছেন। আশ্চর্য আর বিরক্ত হলো নিজেদের ক্ষুধা মিটাতে ব্যস্ত পশুগুলো। ওরা নিজেদের নিয়ে এত ব্যস্ত যে আশে পাশে প্রকৃতির কোন পরিবর্তনের প্রতি পুরোপুরি অমনোযোগী।

বৃষ্টির ফোটাগুলো একটু ঘন হয়ে পড়তেই প্রাণীগুলো আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য চঞ্চল হয়ে উঠলো। ওদের গলায় পেচানো লোহার শিকলটা ওদের অধৈর্যতার মুখে মাটিতে গাড়া খুটো থেকে ছিড়ে যাওয়ার উপক্রম

হলো।

অধৈর্যতা আবার না হিংস্রতায় রুপ নিয়ে ওর নিজের জীবনটায় শঙ্কাযুক্ত হয়ে ওঠে সে আশংকায় সচেতন আর হিসেবী মনিব ওর একান্ত অনিচ্ছা সত্বেও অনেকটা বাধ্য হয়েই ঐ ঘরটার মধ্যে আশ্রয় নেয়ার

সিদ্ধান্ত নিলেন।

ততোক্ষনে অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে।

খুক খুক করে কাসতে কাসতে ছয় ফুটের মত লম্বা হাড্ডিসার এক বৃদ্ধ একটা কেরসিনের প্রদিপ হাতে প্রবেশ করলো ঘরটার মধ্যে। গায়ে শতছিন্ন বস্ত্র, বয়সের ভারে কুঁজো হয়ে আছে। ওর শরীরটা এতই

কৃশকায় যে মনে হচ্ছে চামড়া ঢাকা হাড্ডির খাচার শরীরটার মধ্য দিয়ে এপার ওপার দেখা যাচ্ছে।

প্রদিপটা উঁচিয়ে ও সবাইকে দেখে নিল। নিজেকে ঘাটুরে বলে পরিচয় দিয়ে, খুক খুক করে কাসতে কাসতে কিঁচ কিঁচ শব্দ করে কথা বলতে লাগলো। ওর গলার স্বরে ও জীবিত কিনা সন্দেহ হতে লাগলো।

ততোক্ষনে ওরা চারজন নিজেদের পছন্দ অপছন্দকে বিসর্জন দিয়ে ওদের অনুগত পশুদের সাথে নিয়ে ওই সময়টুকু কাটানোর জন্য সহবস্থানের জন্য মনস্থির করে নিশ্চিন্ত হয়েছে।

-এগুলো এনেচো কেন? পশুগুলোকে দেখিয়ে খুক খুক করে কাসতে কাসতে ঘাটুরে বললো।  

-এগুলো এপারের জিনিস, ওপারে কোন কাজে আসপে না।

একটু থেমে আবার বললো- একেনে কোন রকমে জাগা হলিও ফেরিতেতো জাগা হবেননা। সেকেনেতো সব অন্ধকার, আলো নেই। গাদাগাদি করে যাতি হবে। ওর মদ্যি এগুলো কে কারে কামড়ায় আর কোনটা কোন দিকি যায় তার কি ঠিক ঠিকানা আচে।

কেতাদুরস্থ লোকটি তার পশু গুলোকে নিয়ে প্রবেশ করলেন।

হিংস্র পশু তিনটি তখনও মুখের মধ্যে অবশিষ্ট মাংসের টুকরো গুলো চিবোচ্ছে। ঘাটুরের অপ্রতিভ প্রদিপের আলোয় ওদের মুখে লেগে থাকা রক্তের দাগগুলো স্পষ্ট দেখা গেল।

সবাই যেন একসাথে চমকে উঠলো। উপস্থিত চার জন নিজ নিজ পশুগুলোকে নিয়ে মানুষ পশুতে একাকার হয়ে ঘরটার একদম এক কোনায় একে অন্যের আড়ালে জড় হলো।

কেতাদুরস্থ ভদ্রলোক কিছুটা অবাকই হলেন । এই জীর্ণ ঘর আর আত্মপ্রত্যয়হীন মানুষগুলোর জন্য ওর চোখে মুখে একটা করুনার ভাব পরিষ্ফুট হয়ে উঠলো।

ওর সহগামী পশুগুলোও পরিস্থিতির আকস্মিকতায় ক্ষনিকের জন্য বিহবল হলো মনে হলো। ওরা হাড্ডিসার ঘাটুরের দিকে এক পলক তাকিয়ে নিয়ে অবাক চোখে কোনায় জড়ো হওয়া ওদের দিকে তাকালো। মনিবের মত কোন ভাবাবেগ ওদের মুখের উপর প্রতিভাত হলো কিনা বোঝা গেল না, তবে ওরা ক্ষনিকের জন্য বিরতি দিয়ে পুনরায় মুখের অবশিষ্ট মাংসগুলো চর্বন করতে শুরু করলো।

-এপারেতো না হয় কোন রকমে চলবেনে, কিন্তু এগুলো নিয়েতো আপনারা যাতি পারবেন না। বুঝতি পারতেছেন না কেন, এপারের কোন জিনিসই ওপারে চলে না।

ঘাটুরের কথায় সবাই যেন সম্বিত ফিরে পেল। সবাই তাকালো ওর দিকে। প্রদীপটা মাঝখানে রাখলো ঘাটুরে।

আলো আধারিতে মোটামুটি সবাইকেই দেখা যাচ্ছে।

-এ পাশেতো এই খাচাডায় সম্বল। পাঁচ জনের ক্ষনিকের আবাস।

ঘাটুরে ঘড় ঘড় শব্দে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

নিজের হাড্ডিসার শরীরটাতে হাত বুলাতে বুলাতে ঘাটুরে বললো- খাচাডাতো এপারের জিনিস, তায় ও পারে যেমনি এর দাম নেই, তেমনি ও গুলোরও কোন প্রয়োজন নেই।

ওদের সাথে আনা পশু পাখিদের নির্দেশ করে কথাগুলো বললো ঘাটুরে।

-খামাকা সব খামাকা!

খক খক করে একটু কেসে নিয়ে আবার বলতে শুরু করলো।

-ফেরীতি খুব গাদাগাদি। সব একসাথে থাকতি হয়। সেখানে ওগুলোনতো একজন আর একজনের সাথে কামড়া কামড়ি করতি ব্যস্ত হয়ে পড়বেনে। বড় গুলো তো ছোট গুলোরে শেষ করে ফেলবেনে।

-মানষির জন্যি গাদাগাদি হলিউ অসুবিদে নেই। চোখ বন্দ কল্লিই সব এক। কিন্তু ঐগুলো, ঐ গুলোরে দিয়ে বিশ্বাস নেই। নিজেগের শান্তির জন্যি, জিদির বশে না বুঝেই সব শেষ করে দেবে।

সবাই ঘাটুরের দিকে তাকিয়ে শুনছে ওর কথা।

-তোমরা সব ফিরে যাও, তৈরী হয়ে আবার আসো।

-খামাকা সব খামাকা!

কথাগুলো বলতে বলতে আর খক খক করে কাসতে কাসতে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল ঘাটুরে।

Category: Meaning of Life, Posts

Write a comment