ভিন্নতার সেতুবন্ধনে ঈশ্বরের বাস

সময়টা শুক্রুবার সন্ধ্যে বেলা। পরদিন উইকেন্ড শুরু, এ দিনটার জন্য কর্মজীবি মানুষেরা অধীর আগ্রহ সহকারে অপেক্ষা করে। আমার অন্যান্য সহকর্মীরা সবাই বেরিয়ে পড়েছে। আমি যাব কি যাবনা চিন্তা করতে করতে রাস্তার সাথে লাগোয়া আমার বাসার সামনে বুক অব্দি উচু বাউন্ডারি পাচিলটার উপর পা ঝুলিয়ে বসলাম।
এ সময় রেসিডেন্সিয়াল এলাকার রাস্তায় গাড়ী ঘোড়া নেই বললেই চলে। এখন ভীড় সব ডাউন টাউনে।
মোজাম্বিকের সর্ব উত্তরের প্রদেশের রাজধানী শহর নাম্পুলাতে আমি ইউ এন এর আওতায় কাজ করি। কয়েক দশক ব্যপি গৃহ যুদ্ধে জর্জরিত দেশটি শান্তি চুক্তির মাধ্যমে বিবাদমান দলগুলি অস্ত্র বিরতি এবং সমর্পণে রাজি হয়েছে। বছর খানেক হল, প্রতিদিন পাহাড় জঙ্গল এবং পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো সবে ফিরতে শুরু করেছে।
সন্ধ্যার পর রাস্তা ঘাট এমনিতেই ফাকা, আর পরের দুদিন উইকএন্ড বলে এ সময়টাতে মানুষ যা আছে হয় তারা নিজ নিজ বাসায় বা ডাউন টাউনে অবস্থিত বার বা ডিস্কতে ভিড় করে আছে।
দূর থেকে ভারী ড্রামের শব্দ ভেসে আসছে। ভাবছি কি করি।
এসময়ে আমাকে এভাবে একলা বসে থাকতে দেখে আমার ভাড়া বাড়ীর মালিকের চোদ্দ পনেরো বছরের ছেলে মিগেল এসে আমার পাশে বসলো।
ওরা দু’ভাই দু’বোন। ওর একটা বড় বোন তার পর ওরা দুভাই আর একদম ছোটটা বোন। ওরাও ফিরেছে কয়েক মাস হল। মুল বাড়িটা কোন রকমে ঠিক ঠাক করে এই দুর্মূল্যের বাজারে আমাকে ভাড়া দিয়ে ওরা সবাই পিছনে দিকে তৈরী এনেক্স কোয়াটারে বসবাস করে।
ওদের মা স্থানীয় একটা হাসপাতালে নার্সের কাজ করে। ওরা চার ভাই বোন সবাই স্কুল কলেজে লেখা পড়া করে।

-ভালোই হল, তোমাকেই খুজছিলাম।
-কেন?
এ দেশের নিয়মানুযায়ী ওরা ভাড়া বাসার সাথে বাসায় রক্ষিত সব জিনিস পত্র আমাকে ব্যবহারের জন্য দিয়েছে। সেভাবেই আমার ড্রইং রুমে ওদের ক্যাসেট প্লেয়ারটা রয়ে গেছে যেটা ওদের দরকার।
-ঠিক আছে রুম খোলা আছে তুমি ওটা নিয়ে যাও।
মিগেল খুশী হল, কিন্তু একটু ইতস্তত করতে লাগলো।
-কি আর কিছু? আমি কিছুটা আদরের স্বরে কথাটা জিজ্ঞেস করলাম।না, মানে ক্যাসেটটা তোমার ড্রইং রুমে বসেই দেখতে চাই। মা সহ আমারা সব ভাই বোন থাকব।
-কোন সমস্যা নেই। কোন বিশেষ কিছু কি? এমনিতেই কথাটা জিজ্ঞেস করলাম।
-আমার মায়ের বিবাহ বার্ষিকী আজ, তাই মা বাবার বিয়ের ক্যাসেটটা দেখব আর একটা কেক কাটব।
-সেত ভাল কথা। আমি বাইরে বেরবো, ফিরতে বেশ রাত হবে আর তাই তোমরা যতক্ষণ দরকার ততোক্ষণ সবায় মিলে মজা কোর কেমন।
-মা আপনাকেও থাকতে বলেছে।
ভাবলাম বলি –না, আমার একটু বেরুতে হবে। আর আমি থাকলে ওরা নিজেদের মত করে মজা করতে পারবে না।
-প্লিজ, মা বারবার করে বলেছে। আপনি থাকলে মা খুশী হবে, আর মা খুশী হলে আমাদের সবার ভাল লাগবে।
ওদের মা মারগারেট মাঝ বয়েস পার করা শীর্ণকায় একজন মহিলা। খুব একটা বেশী কথা বলে না। সেটা ওর ইংরেজী কম জানার কারণেও হতে পারে। কিন্তু যাকে বলে কোন অভিব্যক্তি হীন মুখাবয়ব ওর। প্রতিদিন সকালে আমি অফিসে যাওয়ার আগে সামনের বারান্দায় কিছুক্ষণ পায়চারী করার সময় ওকে দেখি একটা টিফিন ক্যারিয়ার হাতে হেটে হেটে হাসপাতালে যেতে। মুখটা সব সময় শুখনোই দেখায়। আমি সুপ্রভাত বললে তাতে শুধু মাথা নাড়ায় কিন্তু সেটাও ঠিকমত বোঝা যায় না।
পর্তুগীজ এক ধনাড্য ব্যবসায়ী ওর স্বামী বলে শুনেছি। দেশটা পর্তুগীজ কলোনি ছিল, শান্তি চুক্তির আগে আগেই ভদ্রলোক এ দেশ ছেড়ে পর্তুগালে চলে গিয়েছেন।
-আচ্ছা, বলে আমার সম্মতি জানালাম।

সন্ধ্যে সাড়ে সাতটার দিকে আসলো ওরা সবায়। আমি কাজের ছেলেটাকে দিয়ে আনা একটা ফুলের তোড়া দিয়ে মারগারেটকে স্বাগত জানালাম।
ও হাসল একটু মিষ্টি করে। ভারি ভাল লাগলো। এর আগে ওকে এভাবে হাসতে দেখিনি।
কেক কাটার ছোট্ট একটা অনুষ্ঠান শেষে ক্যাসেটটা চালিয়ে দিল।
তিন সিটের সোফায় আমার পাশেই বসা মারগারেট। ভাই বোন গুলো আশে পাশের চেয়ার আর সোফাতে বসলো।
বিয়ের অনুষ্ঠান, শহরের সব হোমরা চোমরা মানুষদের দেখা যাচ্ছে। সাদা কাল দু’ধরনের মানুষেরা আছে। নেভি ব্লু রঙের স্যুট পরা মিগেলের বাবা, পর্তুগীজ শ্বেতাঙ্গ, বয়সের ছাপ সুস্পষ্ট, মাথা ভর্তি টাক, ক্যামেরার ফ্লাশ পড়ে সেটা চক চক করছে। সবায় খুব হাসি খুশী হালকা মেজাজে।
টিভির পর্দায় মিগেল আর ওর ভাই বোনগুলো নাচা নাচি হাসা হাসি করছে। বোধহয় পাহাড়ের ভিতর অবস্থিত কোন চার্চে অনুষ্ঠানটা হচ্ছে।
কিছুক্ষনের মধ্যেই সাদা ধবধবে কনের পোশাকে মারগারেটকে আনা হল।
কিন্তু একি বিয়ের সময় আর এখনকার মারগারেটকে একই রকম লাগছে। ভাবছি বোধহয় বিয়ের ক্যাসেট নয়, দুএক বছর আগে কোন বিবাহ বার্ষিকীর ভিডিও। তায়ই হবে কারণ ছেলে মেয়ে গুলোও প্রায় এখনকার মত দেখতে।
পর্তুগীজ মিউজিকের তালে তালে নাচ গানের মধ্যে ক্যাসক পরিহিত একজন ক্রিশ্চিয়ান ধর্মগুরু উপস্থিত হল।
কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আর আমার পাশে বসে ছেলে মেয়ে গুলো ভিডিওটা দেখে যে ভাবে হাসাহাসি আর মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরনের উল্লাস ধ্বনি করছিলো তাতে করে ওদেরকে কিছু জিজ্ঞেস করার মত ফুসরত বের করতে পারছিলাম না।
মারগারেট নির্লিপ্তে প্রায় মূর্তির মত বসে দেখছিল। ওর দিকে তাকালাম কয়েকবার কিন্তু দৃষ্টি বিনিময় হল না। মনে হল টিভির পর্দার দিকে তাকিয়ে মারগারেট যেন হারিয়ে গেছে অন্য জগতে।
কিছুক্ষন পর ধর্মযাজক বিয়ে পড়ানোর কার্যক্রম শেষে ওদেরকে স্বামী-স্ত্রী ঘোষণা করলে করতালি দিয়ে সকলে তাদেরকে স্বাগত জানালো।
বিষয়টা ঠিক কি হচ্ছিলো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এটা কি সত্যিকারের বিয়ে না বিয়ের কোন বার্ষিকী ঘটা করে পালন?
ক্যাসেট দেখা শেষ হলে ওরা আর অপেক্ষা না করে আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভরাত্রি বলে বেরিয়ে গেল।

পরদিন সাপ্তাহিক ছুটি তায় সকালে জগিং করব বলে ট্রাক স্যুট পরে বারান্দায় বেরিয়েছি। দেখলাম মারগারেট ওর সিঙ্গেল ক্যবিন পিক আপ’টা বোধহয় গরম করে নিচ্ছে।
মারগারেটের সাথে আমার তেমন কথা হয় না। অবকাসও তেমন নেই। প্রতিদিন সকালে একটা টিফিন ক্যারিয়ারের বাটি হাতে ওকে বেরিয়ে যেতে দেখি আর ফিরতে বোধহয় সন্ধ্যে হয়। হাসপাতালটা ধারে কাছে হবে কোথাও।
দেখা হলে শুভেচ্ছা বিনিময় করলে ও কেবল মাথা নাড়িয়ে জবাব দেয়। ওর মুখাবয়বটা কেমন যেন ভাবলে্সহীন কোন অভিব্যক্তি নেই সেখানে।
কিন্তু আজকে ওকে একেবারে অন্য রকম লাগলো, বেশ প্রানবন্ত। ও স্পষ্ট ভাবে আমার শুভেচ্ছার জবাব দিল। ভারি ভাল লাগলো।
-আজ তো ছুটির দিন, তুমি যাবে আমার সাথে আমার খামারে? দুপুরের পর পরই ফিরে আসবো।
কোন কিছু না ভেবেই রাজি হলাম ওর প্রস্তাবে।
আমি ড্রাইভার ক্যাবিনে ওর পাশে উঠে বসলাম। গাড়ী চলতে শুরু করলো। শহর পেরিয়ে পাহাড়ি আঁকা বাঁকা উঁচু নিচু রাস্তা। গাড়ীটা বেশ জোরে চালাচ্ছিল মারগারেট। পাহাড়ী রাস্তার সব বাঁক যেন ওর নখ দর্পণে কোন বাঁক আসার আগেই ও হর্ন বাজিয়ে আগত গাড়ীকে সতর্ক করছিলো।
যাহোক, প্রায় ঘন্টা খানেকের মধ্যে ওর খামারে পৌছালাম।
ছোট বড় কালো পাথরের পাহাড় ঘেরা খামারটা। হাস মুরগী, গরু মহিস, আর মাছের চাষ হয় খামারটাতে। বেশ কিছু মানুষজন বিভিন্ন কাজ কর্মে ব্যস্ত।
মাঝ বয়সী একজন লোক এসে পিক আপের দরজা খুলে ওকে নামতে সাহায্য করলো। লোকটিকে খামারের ম্যানেজার বলে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।
আমাকে একটা লেকের উঁচু পাড়ের উপর প্লাস্টিকের চেয়ারে বসতে বলে মারগারেট পাশেই বিভিন্ন কাজের তদারকিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।
ভারী ভাল লাগলো প্রানবন্ত মারগারেটকে দেখতে।
সামনেই লেকের ওধারে একটা কালো পাথরের পাহাড়, কম করে সাত আটশ ফুট উঁচু হবে, পাহাড়টার উপরি ভাগটা ফ্লাট বলা চলে, আর সেটার মাঝামাঝি স্থান থেকে পাহাড়ের দেহ ভেদ করে কালো পাথরের একটা খণ্ড দাঁড়িয়ে আছে। কিছুক্ষন ওদিকে তাকিয়ে থাকাতে মনে হলো ওটা যেন একটা মানুষের মাথা, উন্নত শীরে মারগারেটের ফার্মের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সূর্যটা তখনও পুব আকাশে তাই লেকের পূর্ব পাশে দাঁড়ানো পাহাড়টার প্রতিচ্ছবি শান্ত লেকের জলে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।
সেদিকে তাকিয়েই ভাবতে ভাবতে যেন কল্পনার জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম। হটাৎ মারগারেটের ডাকে সম্বিত ফিরে পেলাম।
-কি দেখছো? মনে হয় মানুষের অবয়ব, তায় না। কথা বলতে বলতে হাসি ভরা মুখে একটা ট্রেতে করে আনা চা আর বিস্কুট পাশের টেবিলের উপর নামিয়ে রেখে পাশে রাখা চেয়ারে বসতে বসতে ইশারাই আমাকে চা নিতে আমন্ত্রন জানালো মারগারেট।
এই কালো পাহাড় পরিবেষ্টিত পরিবেশে পীত কালো চামড়ার মারগারেটের সাদা দাত বের করা হাসিটা আমাকে সত্যি সত্যিই সম্মহিত করলো। এই মুহূর্তে মারগারেটের হাসিকে সত্যিকারের আত্মার শান্তির অকৃত্রিম বহিঃপ্রকাশের প্রতিভূ মনে হল।
-আমার স্বামীর নাম পিয়েঘ, বছর দুই আগে তড়িঘড়ি করে চলে যাওয়ার প্রাক্কালে আমাদের বিয়েটা সম্পন্ন হয়, যাতে ওর সব সম্পত্তির মালিকানা আইনত আমার আর আমাদের সন্তানদের কাছে আসে। গত কাল তোমার অবাক হওয়া দেখে আমি বুঝেছিলাম বিষয়টা বুঝতে তোমার কষ্ট হচ্ছে।
আমি তাকালাম মারগারেটের মুখের দিকে। প্রশান্তিতে ভরা সে মুখায়ব, আগে দেখা মারগারেটের মত নয়।
-আমাদের ভালবাসার বিয়ে। দেশটির সর্বোত্তরে অবস্থিত নাকালা পোর্টে আমার বাড়ী, ওই পোর্টে পিয়েঘের জাহাজ ভিড়ত। ওখানেই আমাদের পরিচয়। ওকে ভালবেসে আমি আমার আপন জন বলতে যাদেরকে বোঝাই তাদের সবাইকে ছেড়ে ওর কাছে চলে এসেছিলাম। পিয়েঘ আমাকে পাগলের মত ভাল বাসে। এখন এ অবস্থার মধ্যেও পিয়েঘ আমার হাসপাতালের টেলিফোনে প্রায় প্রতিদিন আমার সাথে কথা বলে। ছাড়তেই চায় না ফোন।
-আমার ছেলে মেয়েরা সব ওদের বাবার মত দেখতে, বিষয়টা পিয়েঘকে খুব নাড়া দেয়। তাই সংসারে একমাত্র চাক্ষুস ভিন্নতার আমি যেন একাকী অনুভব না করি তার জন্য পিয়েঘ আর আমার ছেলেমেয়েরা সবসময় খুব ব্যতিব্যস্ত থাকে।
উন্মুখ হয়ে শুনছিলাম ওর কথা।
-আমার মনে হয় কি জান, ভিন্নতায় ভরা তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সেতু বন্ধন ঈশ্বর খুব পছন্দ করে। ভিন্নতার সেতুবন্ধন ঈশ্বর নিজে রক্ষা করেন। ভিন্নতাকে যারা ভালবাসে ঈশ্বর তাদের ভিতর জাগ্রত থাকে।
আমি মারগারেটের দিকে তাকিয়ে তন্ময় হয়ে ওর কথা শুনছিলাম।
-ওই পাহাড়টা দেখছো না, ওটা পিয়েঘের খুব প্রিয় পাহাড়। বলতে গেলে ওই পাহাড়টার জন্যই পিয়েঘ এ জায়গাটা পছন্দ করেছিল। ও বলে যে ওর নিজের উপরটা সাদা কিন্তু ভিতরটা ওই পাহাড়ের মত কালো, আমার রঙের সাথে মিলানো।
-আমি অনুভব করি পিয়েঘ শরীরে আমার সাথে নেই কিন্তু ওর অন্তরটা আমার সাথে এখানেই থাকে সব সময়। তুমি বিশ্বাস করবে, এখানে আসলে আমি পিয়েঘের সাথে কথা বলি। ওটা নিরেট পাহাড় নয় ওটা রক্ত মাংসের মানুষ।
লেকের শান্ত জলে বসে থাকা একটি শ্বেত শুভ্র দাড় বক পাখা ঝাপ্টিয়ে উড়ে গেল। সম্বিত ফিরে তাকালাম সেদিকে।
লেকের মরা জলে মৃদু ঢেউ যেন প্রানের সঞ্চার করলো। উপরে মেঘ শুন্য নীল আকাশ আর তারই গায়ে হেলান দিয়ে পাহাড়টা দাড়িয়ে। ততোক্ষণে সূর্যটা উপরে উঠে আসায় লেকের জলে পড়া পাহাড়ের প্রতিচ্ছবিটা নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে নিজ অবয়বে ফিরে উন্নত শীরে দাঁড়িয়ে আছে। শ্বেত শুভ্র দাড় বকটা ঠিক ওটার মাথার উপর গিয়ে বসলো।
কি অপরুপ! চোখ জুড়িয়ে গেল। স্কাই লাইন ভেদ করে মেঘ মুক্ত নীল আকাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পীত কালো পাথরের পাহাড়ের মাথায় শ্বেত শুভ্র দাড় বকটা বসে। যেন কোন দক্ষ শিল্পীর নিপুণ তুলিতে আঁকা ক্যানভাস। বৈসাদৃশ্যের মিলন যে এত অপরুপ সেটা নিজ চোখে না দেখলে হয়ত বিশ্বাস করতাম না।
দয়াময় বিধাতার বৈসাদৃশ্য পৃথিবী সৃষ্টির অর্থ কিছুটা হলেও বুঝতে কষ্ট হল না। কৃতজ্ঞতায় মাথাটা নুইয়ে আসলো।
-ভিন্নতাকে ভালবাসলে ভিন্নতার সৃষ্টিকারী মহান ঈশ্বরকে ভালবাসা হয়। ভিন্নতার সেতুবন্ধনে ঈশ্বরের আবাস।আমি আসলে ওই শ্বেত শুভ্র দাড় বকটা ওই কালো পাথরের পাহাড়ের মাথায় যেয়েই বসে। সৃষ্টির মাধ্যমেই ঈশ্বর তাঁর ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটায়।
এই মুহূর্তে আমরা বৈসাদৃশ্য অসমবয়সী ভিন্ন মেরুর দু’টি মানুষ আমাদের মধ্যের ব্যাহিক সব ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে কেউ কারো দিকে না তাকিয়ে একে অপরের উপস্থিতি শুধু অনুভবে রেখে ওই বৈসাদৃশ্য মিলনের প্রতিভু পীত কাল পাহাড়ের চুড়াই শ্বেত শুভ্র দাড় বকটা দিকে অপলক নেত্রে তাকিয়ে রইলাম।

Category: Short Story

Write a comment