গাড়ী থেকে নেমে চওড়া মসৃণ পাকা রাস্তা ছেড়ে আঁকা বাঁকা মেঠো পথ ধরে অনেকক্ষন ধরে হাটার পর সাঁকোর কাছে পৌছালাম। মেঠো পথের দূরত্বটা মাইলে বিচার করলে বড় ধরনের ভুল হতে পারে। কারন অচেনা পথ, সব জায়গায় আবার পথের অবস্থা এক রকম না। কোথাও মসৃণ কোথাও এবড়ো থেবড়ো কোথাও চওড়া আবার কোথাও সরু। আর বাঁক গুলো এমন যে প্যাঁচানো দূরত্বের সাথে সরাসরি দূরত্ব তুলনা করলে অনেক বাঁকে তা প্রায় দু’তিন ভাগের এক ভাগ হবে।
জীবন চলার পথের সাথে এই মেঠো পথের একটা মিল আছে। সকলের জীবন এগিয়ে যায় নিজ গতিতে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মানুষ জীবন চলার পথে কে কার আগে বা পিছে সে হিসেবটা সব সময় অংকের নিয়মে মিলানো যায় না। আপাত দৃষ্টিতে অনেক এগোনোর পর দেখা যাই অনেক জীবনই এক জাইগায় দাঁড়িয়ে আছে বা অনেক সময় মনে হয় পিছিয়ে গেছে। কখনো কখনো মনে হয় যে, ঐ চোখে দেখা এগোনোর কোন প্রয়োজন ছিল না।
যাহোক, আমার এ পথের দূরত্বের হিসেবটা সময়ে বিচার করলে হয়ত কিছুটা আন্দাজ করা যেতে পারে। কিন্তু তা কোন ভাবেই নির্ভুল হবে না, কারণ আবার সময়ের দূরত্বটাও সংগত কারণেই এক একজনের বেলাই এক এক রকম হওয়াটাই স্বাভাবিক।

সাঁকোর ওপারে আমার গন্তব্য। কিন্তু এতটা রাস্তা হেটে আসার পর সাঁকোতে উঠতে যেয়ে দেখি সাঁকোটা ভাঙ্গা। তিন বাশের সাঁকো একটা খালের উপর। বেশী চওড়া না, কচুরিপনায় ভর্তি খালটা। গভীরতা বুঝার কোন উপায় নেই।
কি করি এখন! এতটা রাস্তা হাটার পর দেহ ক্লান্তিতে ভরে গেল। সাঁকোটা ভাল থাকলে বোধহয় ক্লান্তি বোধটা মনে আসতো না। এতটা পথ হাটা পণ্ডশ্রম মনে হওয়াই মনে ক্লান্তি বোধটা ভর করলো বুঝতে পারছি।
মানুষের মনটা অনেকটা হাতির চোখের সাথে তুলনা করা যায়। হাতির বিশাল শরীরের তুলনায় চোখ দুটো তার অতি ক্ষুদ্র, তাতে আবার ওর চোখের দুপাশে তাল পাতার মত বড় বড় দুটো কান। পিছনের দিকে কিছুই দেখতে দেয় না। তায়তো আন্দাজের উপর নির্ভর করে অনেক কিছু করতে হয়।

ভরা দুপুর, বারোটা বোধহয় বেজে গেছে। ঘাটের পাড়টা জংলা, তারই ভিতর মাথা উঁচু করে একটা বেশ মোটা কান্ডের গাছ নিচেটা ছায়াই ঢাকা দাঁড়িয়ে। ভাবলাম ওটার ছায়াতে বসে একটু বিশ্রাম নিতে নিতে ভাবি কি করা যায়।
ছায়াই বসে গাছের গোড়াই হেলান দিয়ে ব্যাকপ্যাক থেকে পানির বোতলটা বের করে চুমুক দিতে দিতে ভাবছি ফিরে যাব কিনা।
কিছু জানা অজানা পাখীর ডাক আর ধারে কাছে কোন গাছের ডালে বসে একটা ঘুগু একটানা ডেকে চলেছে। প্রকৃতির একচ্ছত্র রাজত্ব যাকে বলে। বেশ ভাল বোধ করলাম। ক্লান্তিটা একদম নিমিষেই কেটে গেল। ভাবলাম কত দিন পর প্রকৃতির এত কাছাকাছি আসার সৌভাগ্য হল।
খালের গাঁ ঘেসে পুরোটা জংলা, ধারে কাছে কোন লোকজন বা বাড়ী ঘর কিছুই নজরে আসছে না। একেবারে যাকে বলে জনমানব শুন্য কাঠ ফাটা রোদের দুপুর। ধারে কাছের লোকজন নিশ্চয় জানে যে সাঁকোটা ভাঙ্গা তায় বোধহয় এদিকে কারো আনাগোনা নেই।
আপাতত প্রকৃতির প্রেমে ডুবে সব কিছুকে উপভোগ করতে লাগলাম।

কিছুক্ষন বাদে অল্প বয়সী শাড়ী পরা একজন বধু একটা কলসি কাকে ঘাটে আসলো পানি নেবে বলে। বলতে গেলে আমার পাশ দিয়ে ঘাটে যাওয়ার একপেয়ো পথটা কিন্তু মেয়েটা যাওয়ার সময় খেয়াল করিনি আমরা কেউ। পানি ভরে কলসিটা কাকে উঠিয়ে ফিরে তাকাতেই আমাকে দেখলো। একটু অবাক হল। তার শরীরে কাপড় টানা ইত্যাদি অঙ্গভঙ্গিতে তা প্রতীয়মান হল। ফেরার সময় আমার দিকে একটু তাকিয়ে মাথা নিচু করে কলসি কাকে চলে গেল।
-হবে গ্রামের কোন বধু। ভেবে আবার গাছের গায়ে ভাল করে হেলান দিলাম।
-কিছু সময় পর আবার কলসি কাকে নিয়ে আসলো মেয়েটি। এবার কলসি ভরে ফেরার পথে দাড়ালো একটু।
-এই রোদে এখানে না বসে বাড়ীর মধ্যে বসতে পারেন তো।
ভাল লাগলো তার ঐ আন্তরিকতা ভরা প্রস্তাব। কথাটা বলে একটু দাড়ালো। বোধহয় আমাকে রাস্তা দেখিয়ে নিয়ে যাবে বলে।
আমি নির্দ্বিধায় উঠে দাড়ালাম। ব্যাকপ্যাকটা পিঠে ঝুলিয়ে নিয়ে তাকে অনুসরন করে চললাম। জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পেচিয়ে পেচিয়ে একপেয়ো পথ ধরে কিছুক্ষন হাটার পর বাশের বেড়া দিয়ে ঘেরা দোচালা টিনের কয়েকটা পাকা ঘর ওয়ালা একটি ভিটে বাড়ীর আঙ্গিনায় প্রবেশ করলাম তার পিছনে পিছনে।
চারিদিকে নিস্তিব্দতা কারো কোন সাড়া শব্দ নেই। ভাবলাম এই গরমে সবাই হইতো ঘরের ভিতরে বিশ্রাম নিচ্ছে।
একটা ঘরের উঁচু বারান্দার একপাশে কাঠের চেয়ার টেবিল পাতা। ইশারায় আমাকে ওখানে বসতে বলল আমার আপ্যায়নকারী।
সে রান্না ঘরে ঢুকল। বুঝলাম গ্রাম বাংলার চির চেনা আতিথেয়তা।
ব্যাকপ্যাকটা টেবিলের উপর রেখে আমি বসে আছি একটা চেয়ারে। একটা পচিশ ত্রিশ বছরের ছেলে বাইরে থেকে আঙ্গিনায় ঢুকল। একটু অবাক হল আমাকে দেখে ক্ষনেকের জন্য। তারপর ইতস্তত ভাবটা কাটিয়ে তাকালো আমার দিকে। আমাদের চোখা চোখি হল, জিজ্ঞেস করলো না কিছু। সে পাশের ঘরটাই প্রবেশ করলো।
মেয়েটি একটা কাচের গ্লাসে এক গ্লাস লেবুর সরবত আর বেতের ছোট একটা ঝুড়িতে মুড়ি এনে টেবিলে রাখলো।
খুব ভাল লাগলো অচেনা মেয়েটির আন্তরিকতায়।
আমি শরবতের গ্লাসে চুমুক দেয়ার আগেই ছেলেটি ঘর থেকে বেরিয়ে উঁচু বারান্দার এক কোনে পা ঝুলিয়ে বসলো। ওর অঙ্গ ভঙ্গিমায় একটু আগের সেই ইতস্তত ভাবটা তেমন পরিলক্ষিত হল না।
-তোমাকে কি শরবত দেব?
আমার আপ্যায়নকারীর নিম্ন স্বরের প্রস্তাবে ছেলেটি ইশারাই হ্যে বলল বলে মনে হল।

বাবলু এই গ্রামের সচ্ছল কৃষক পরিবারের ছেলে। শহরে হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করেছে। বাবলি ওই শহরের বাসিন্দা বড় লোক ব্যবসায়ী বাবার একমাত্র কন্যা। সাদা মাঠা জীবনের গল্প।
ওরা একই সাথে একই কলেজে পড়েছে বছর পাচেক ধরে। ওদের যখন প্রথম পরিচয় তখন বলতে গেলে দুজনই প্রাপ্ত বয়স্ক। জীবনের অনেক খানি দেখে ফেলেছে ইতি মধ্যেই।
বাবলু এমন একটা ছেলে যে কারো সাথে বিশেষ কোন মেয়েদের সাথে যেচে আলাপ করাটাকে ব্যাক্তিত্ব হানিকর মনে করে। অন্য দিকে বাবলি বড় লোক বাবার সুশ্রী মেয়ে। সব ছেলেরা যেঁচে পড়ে ওর সাথে ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলার চেষ্টা করবে সেটা যেন ওর পাওনা। আগ বাড়িয়ে কারো সাথে আলাপ করে বন্ধুত্ব করাটা ওর অপছন্দের কাজ।
বাবলির বড় চাচা বিদেশে পরিবার সহ বসবাস করে। ওর বাবা এবং চাচা দু’ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্ক চিরকাল মধুর। বড় ভাই লেখাপড়া শেষ করেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল। পৈতৃক ব্যাবসা সম্পত্তি সব কিছু ছোট ভাই দেখাশোনা করে। দূ’ভায়েরই একটা করে সন্তান। বড় ভাইয়ের ছেলে পরশ বাবলির থেকে বছর পাচেকের বড়। দুই ভায়ের ছেলেমেয়েদের মধ্যে ভবিষ্যতে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা সমাজে প্রচলিত সাধারন ধারনার একটি আদর্শ গল্প।
বাবলির বন্ধু বান্ধব আর বিশেষ করে ওদের ক্লাসের বন্ধুরা গদবাধা কাহিনীটি নিজেদের কল্পনায় স্থান দিয়েছে এবং এ বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনাও করে থাকে। ছেলে বন্ধুদের ব্যাপারে তেমন কোন আগ্রহ না দেখানোর বাবলির স্বভাবটা গল্পটাকে আরো বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
বন্ধুদের এধরনের আলোচনা সমালোচনা বাবলির কানে আসলেও সে এগুলোর কোন পাত্তা দেয়নি কোন দিন। আর বাবলুও কখনো বন্ধুদের এধরনের আলোচনায় কোন আগ্রহ দেখাত না।
বাবলু আর বাবলির ক্লাসের বন্ধুত্বের সম্পর্কটা ছিল খুবই চমৎকার। ক্লাসের পড়াশোনা বা একে অপরের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়ার ব্যাপারে ওরা গভীর সম্পর্ক বজায় রেখে চলতো। বাবলিদের বাড়িটা কলেজের কাছাকাছিই বলা যায় আর ওর বাবা মা খুব আন্তরিক মানুষ, তায় অনেকবার ওদের বাড়ীতে বন্ধু বান্ধবদের দাওয়াত দেয়া বা ছুটির দিনে হৈ’হল্লা করে ওদের বাড়িতে যাওয়া ক্লাসের বন্ধুদের একটা মজার ব্যাপার ছিল। বাবলুও এ ধরনের আড্ডাই খুব আন্তরিক ভাবে যোগ দিত অন্যান্য সবার সাথে।
বাবলু আর বাবলির সম্পর্ক ছিল একেবারে স্বচ্ছ, অনেক ভাল বন্ধুদের একজন হিসেবে।
বাবলির অবর্তমানে ওর অন্যান্য বন্ধুরা লেখাপড়া শেষে পলাশের সাথে বিয়ে হয়ে বাবলি দেশের বাইরে চলে যাবে বলে প্রায়শই আলাপ আলোচনা করত। বাবলু সব শুনত কিন্তু এ ধরনের ব্যক্তিগত বিষয়ের আলোচনায় কখনো আগ্রহ দেখাতো না বা অংশ গ্রহণও করত না। বাবলিও ওর ব্যক্তিগত কোন বিষয়ে যেমন কোন আলোচনা করত না তেমনি অন্য কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে আলোচনায় অংশ গ্রহন করা থেকে সব সময় বিরত থাকত।
বাবলির দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওর সাথে আলাদা ভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার একটা প্রচ্ছন্ন প্রবনতা সব বন্ধুদের ভিতর ছিল কেবল বাবলু বাদে। সেভাবেই ওর বন্ধুরা ওকে নিয়ে নানা ভাবে হালকা রশিকতা করতে করতে ওদের কল্পনায় বাবলির মত বাবলুরও বিদেশে এক চাচা আর চাচাত এক ভাই আর এক বোনের আবিষ্কার করে ওই বোনের সাথে বাবলুর বিয়ে ঠিক হয়ে আছে বলে বিশ্বাস করতে শুরু করলো।
ওরা পাশ করার পর ওদের দুজনেরই পূর্ব নির্ধারিত মানুষের সাথেই ওদের বিয়ে হবে। এরকম একটা মুখোরোচক কাহিনী বন্ধুরা বিশ্বাস করত। ওদের বন্ধুরা বিষয়গুলো নিজেদের মধ্যে হালকা ভাবে আলোচনা করত। তবে ওরা দুজনেই অপছন্দ করত বলে বাবলুর বিষয় আলোচনা করার সময় বাবলি থাকলেও বাবলু থাকতো না আর বাবলির বিষয় আলোচনা করার সময় একই রকম ভাবে বাবলু থাকলেও বাবলি থাকতো না।
কেবল মাত্র নামেই না ওদের স্বভাব আচার আচরনের মধ্যেও একটা অদ্ভুত মিল ছিল। তবে সে মিলটা অন্য দশ জনের মত পছন্দ অপছন্দের বা ভাব আদান প্রদানের মিল না। বলা যায় ব্যাক্তিত্ব প্রদর্শনে আদর্শের মিল। যা দেখানো, বলা বা প্রদর্শন বিমুক। যে যেমনটি আছে তেমনটি থাকা।
বাবলির মা বাবা বাবলুকে খুব পছন্দ করত, আর বাবলু ওকেরকে যেমন পছন্দ করতো তেমনি সম্মানও করতো।
সে ভাবেই ওদের দু’পরিবারের সন্মতিতেই সামাজিক ভাবে ওদের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর বাবলির মা বাবা চেয়েছিল ওদের একমাত্র মেয়ে স্বামীকে নিয়ে ওদের সাথে শহরে থাক। কিন্তু সেটা বাবলুর একদম পছন্দ না, আর বাবলিও স্বামীর ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানিয়ে ওর গ্রামের বাড়ীতে এসে বসবাস করতে শুরু করল।
ওরা ভাল চাকরীর চেষ্টা করছে আর যে কারোর চাকরী হলে নিজেরা বাসা ভাড়া করে শহরে থাকবে বলে মনস্ত করেছে।
বাবলু এ গ্রামেই মানুষ আর এখন আছে নিজের বাড়িতে। অন্য দিকে বাবলি খুব সুন্দর ভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে এখানে। শহরে মানুষ হওয়া বাবলির গ্রামে থাকা নিয়ে অযথা চিন্তা করে বাবলু নিজের মনেই কষ্ট পেতে পেতে ধীরে ধীরে ওর মধ্যে একটা অপরাধ বোধের জন্ম নিয়েছে।
বিয়ের পর বাবলি শহর ছেড়ে গ্রামে এসে থাকায় বিদেশে অবস্থানরত ওর চাচাতো ভাই পলাশ খুব ঘন ঘন টেলিফোন করে খবর নেয় আর ও যত তাড়াতাড়ি পারে দেশে এসে ওদেরকে নিয়ে ঘোরাঘুরি করবে বলে বলে। পলাশ টেলিফোন করলে বাবলি বাবলুর সাথেও ওর কথা বলিয়ে দেয়।
বাবলু ওর অপরাধ বোধ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার ফলে বাবলির মধ্যেও বাবলুকে সুখি করতে পারছে না বলে একধরনের অস্বস্তির জন্ম নিয়েছে। ওরা ধীরে ধীরে নিজেদের মধ্যে একটা কল্পনাপ্রসূত অদেখা দেয়ালের সৃষ্টি করেছে আর সেখানে সেতু রচনা করার মত কোন আপন জন ওদের নেই।
ওভাবে বাড়ীর অত কাছে এসে গাছ তলায় বসে থাকতে দেখে বাবলি আমাকে বাবলুর কল্পিত বিদেশে থাকা চাচাত ভাই বলে ধরে নিয়ে আমাকে ওদের বাড়ীতে ডেকে নিয়ে এসেছে। ওদিকে আমার মত বেশভূষায় অপরিচিত একজন মানুষকে ওভাবে বাড়ীতে ডেকে আপ্যায়ন করতে দেখে বাবলু আমাকে বাবলির চাচাত ভাই পলাশ হিসেবে বিবেচনা করে সে ভাবেই আমার সাথে আচরন করছে।

বাবলু আর বাবলির মধ্যে একটা অদেখা কল্পনা প্রসূত দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। যেটা জীবন পরিক্রমণের যে কোন পর্যায়ে দুটি প্রাণের মধ্যে হয়ে থাকে।
মানুষের মন বড় বিচিত্র, মন সব সময় অতীতকে প্রাধান্য দিয়ে তার উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের কল্পনাপ্রসুত এক জগত গড়ে তোলে। আর এই ভিত্তিহীন কল্পনা নির্ভর ভবিষ্যৎ বর্তমান সম্পর্কটাকে টানাপোড়ানের চৌমাথায় এনে দাড় করাই। সম্পর্কের মধ্যে অযথায় গভীর খাদের সৃষ্টি হয় যদি না সময় মত দু’টি অবুঝ মনের সেতু বন্ধনের নিমিত্বে কোন ঘটনা বা কোন মধ্যস্থাকারী তাদের জীবনে আবির্ভূত না হয়।
এটা অনেকটা প্রাকৃতিক পরাগায়নের জন্য বাতাস বা কোন পশু পাখীর আবির্ভাবের মত।
যে প্রকৃতি আমাদেরকে আবেষ্টন করে আছে, তা সংবেদনশীল, প্রকৃতি কথা বলে আর আমাদের কথা শুনতে পারে, বুঝতে পারে। প্রকৃতি চির জাগ্রত। আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস ভারী বা হালকা যাই হোক না কেন প্রকৃতি তা শোনে অনুভব করে আর সে অনুযায়ী কাজ করে। নিস্তব্দতা প্রকৃতির ভাষা, তবে প্রকৃতি শব্দ করেও কথা বলে। মানুষের চিন্তা আবেগ কান্না হাসি নিঃশ্বাস যে তরঙ্গ সৃষ্টি করে তার সব কিছুই প্রকৃতি বুঝে। প্রকৃতিতে যা কিছু আছে তার সব কিছু একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত। মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী গাছ অথবা জড় যা কিছু প্রকৃতিতে আছে সেগুলি অতিপারমাণবিক পর্যায়ে ব্যাবচ্ছেদ করলে একই জিনিস পাওয়া যায়।
ওরা দু’জন একে ওপরের চোখে চোখ রেখে মৃদু হাসল। উঁচু বারান্দাই পা ঝুলিয়ে বসা বাবলুর পাশে গাঁ ঘেসে বসলো বাবলি। একে ওপরের হাত ধরল, তাকাল চোখে চোখে। তার পর বিনা দ্বিধাই বাবলি বাবলুর কাঁধে মাথা রাখল।
ওরা ওদের ভালবাসার জগতে হারিয়ে ভুলেই গেল আমার উপস্থিতি।

Category: Short Story

Write a comment