দিনে দিনে বেড়ে, সবাইকে ছেড়ে, খোকা গেল উড়ে
সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে, শত স্বপ্ন বুকে নিয়ে।
জীবিকার টানে, বাস্তব প্রয়োজনে।

যে হাত দুটো মেলে, নিয়েছিলাম খোকাকে প্রথম কোলে
সেই হাত নেড়ে হায়, দিলাম খোকাকে বিদায়!

দুচোখ গেল জলে ভরে, রক্তক্ষরণ হল হৃদয়ের গভীরে।
তবুও কাঁদতে মানা আছে, যদি খোকা শুনতে পায় পাছে!
যাবার বেলায়, মন যদি তার খারাপ হয়!

বস্ত্রহীন বেশে, অজানা এই ধরায় এসে
বেরিয়ে মায়ের গর্ভ থেকে, প্রথম পৃথিবীর আলো দেখে
উঠলো কেঁদে খোকা, কুঁচকালো ভ্রু, করে চোখ মুখ বাকা।

এইতো সেদিন বাজিয়ে আনন্দ বীণ
এল খোকা ঘরে, হাটি হাটি পা পা করে।

খোকা কবে বড় হলো, হে বিধাতা তুমি বলো?
আমার খোকা আমার কোলে, ভারী হবে বড় বলে!
সহস্র বছর গত হল, মাটির কাঁধে আকাশ তো সেই একই রল!

এই যদি হয় তোমার বিচার
বল তবে হে মহাকর?
কেমন করে পাহাড় বুকে, জল পিপাসায় ধুকে ধুকে
ভারি কাঁধে মরুভূমি, দাড়িয়ে আছে মূক ধরণী!

জানো তুমি হে ভূস্বামী, জমি আমি কৃষক তুমি
যে বীজ বোনো, ফলাই শুধু তায়ই জেন।
মালিক তুমি সব তোমারি, আমি তো কেবল প্রতিহারী।

তোমার ফসল তুমি নেবে, জমি কেবল পুষ্টি দেবে।
আমি কেবল পুষ্টিদাতা, জানি যে তা হে বিধাতা!
ভরা ক্ষেত সব শুণ্য করে, তোল ফসল তোমার ঘরে
বুক যে আমার খাঁ খাঁ করে, সে খবর কি দেয় তোমারে!

দেয়ার ফাঁকে যে নেয়ার খেলা, চলে কেবল সারা বেলা
খেলার মাঝে তা কেউ বোঝে না, শেষ না হলে কেউ খোজে না।

আমি বাঁশি বাদক তুমি, যেমনি বাজাও বাজি আমি
কি যে বাজাও কি সুর সাজাও
তাত কেবল জানা তোমারি, হে কান্ডারি।

বলবে তুমি, এটাই নিয়ম, চলছে অদি অনন্ত কাল
নিয়ম মেনেই চলবে সবি, উঠবে সূর্য্য হবে সকাল।
বলবে জানি, হে বিধাতা, আমিও কারো খোকা ছিলাম
সময় হলেই নিজের মত, নিজের জীবন গড়ে নিলাম।

এমনি করে আকাশ মাটির খেলা খেলে কি লাভ পাবা
ফাঁদ পেতেছো, পড়বো তাতে, আমরা যে সব মাটির বাবা।
আমার খোকাও দিনে দিনে এমনি ফাঁদে পড়বে কোন
তানা হলে দুনিয়া চলে চলায় যে তার ব্রত যেন।

সবই মানি তবু বাবা আমি, রক্ত মাংস হাড়ের খাচায়
দুনিয়া চলে নিয়ম বলে, কিন্তু মানুষ আমি, তা ভোলা যায়!

তোমার খেলা খেলো তুমি সারাবেলা, শোন না তুমি কারো মানা
কেন যে খেলো, আর তাতে কি পাও বল?
তা নেই কারো জানা, আর জবাব জানি তুমি দেবে না।

আমি শুধায় হে মহাকর, রাজা তুমি, রাজ্যে তোমার
পাথরেরতো নেইকো অভাব।
পাথর দিয়ে খেলো তুমি মনের সুখে, মিশিয়ে আকাশ মাটির বুকে
আবার নিয়ে যাওয়া এ কোন স্বভাব!

তোমার খেলাই তোমার হেলাই, ছিড়লে কারো জীবনবীণা
তোমার তাতে, জানি কোনমতে, কিছু যায় আসে না!

বলবে তুমি হে অন্তর্যামী, সব কিছুরই হিসেব আছে তোমার কাছে
চালাতে ভূবন চলতে জীবন, এ সবেরও দরকার আছে।

আমিতো নই বিধাতা, নেই আমার অত হিসেব জানা
দুনিয়া চলবে না থমকে যাবে, তার খোঁজতো আমি রাখি না।

তোমার খেলা খেল প্রভু, আমি অধম খেলব শুধু
খেলবো না, তা হয় কি! তায়তো কেবল সুর্য্য দেখি।
ডুববে যখন রবি, ঘুমের ঘোরে সাঙ্গ হবে সবি।

ঘুমের দেশে যেন আবার স্বপ্ন এসে, ভাঙায় না ঘুম অবশেষে
তোমার দান সে তোমার থাকুক, আকাশ মাটির খেলা থামুক।

সব এ ধরার, তোমার দেয়া ভিক্ষে আমার
ভিক্ষে দেবে, আবার তা কেড়ে নেবে!
এ কেমন বিচার তোমার!
আর কেনই বা তা দিলে আমারে?
থাকবে বসে সুখে দুখে, ছোট্ট খোকা বাবার বুকে
তানা হলে মুক্ত কর এ দাসেরে।

Category: Meaning of Life

Write a comment