চারিদিক কত আলো, যা দেখি সবই ভাল, কত বাতাস ভরা
তবু কেন তার সবই আঁধার, দম বন্দ করা?

এ যেন জল তৃষ্ণায়, ডুব দিয়ে জলের তলায়
দেখি চারদিক শুধু জল বয়ে যায়।
কিন্তু হায়! যেই এক ফোঁটা জল খেতে যায়
নাকে মুখে জল ঢুকে সারা, দম না নিতে পেরে মরা।

বুঝল না সে কি যে হবে, কি ভাবে কি ভেবে, দিনের শেষে অবশেষে
খাঁচা ভেঙেও হলে, জীবন গেল চলে, না ফেরার দেশে।
আগে পিছে আঁধার কালো, তাইতো মরেও, জীবন বাচতে চেলো
নিজের খাঁচা ভাঙল নিজে, কত কষ্ট তা কেউ না খোঁজে।

তুমি শক্তিমান বিধাতা মহান,
তুমিই বল, এ কেমন জীবন হল!
হিসেব মত, এ জীবনের মূল্য কত?

জানি, তা তুমি দেবে যত, তুমিই তো জীবন দাতা।
সেটা কি বিঘা খানেক জমি, না তার থেকেও দামি?
শুধু তুমি জানো তা, হে বিধাতা।

তোমার ধ্যানে, কি জীবন মানে-
রক্ত মাংসের হাড়ের খাঁচায়
কেবল বন্দি করাই তোমার দায়?
হায় তারপর, সব দায় যার যার!

অধম আমি হে মহাকর, বল এ কেমন বিচার তোমার!
সব যদি হয় আমার দায়
বাকি সব না হয় দিলাম বাদ
শুধু বল এ তোমার কেমন ফাঁদ?

সঠিক মত তুমি দিচ্ছ নাত, কর্ম ফলে যার পাওনা যত!
খাঁচার যত্ন সাধ্যমত, করি আমি অবিরত।
তবু কেন যখন তখন, তোমার খেয়াল ইচ্ছে মতন
সময় অসময় বিচার বাদ, শেষ করে দাও খাঁচার মেয়াদ?

জানো তুমি হে দয়াময়, এ জীবন তো নয় কারো চাওয়া
সবইতো তোমার ইচ্ছা তোমার দয়া।
দিলেই যখন, কর তখন, রক্ত মাংসের খাচার যতন।

তোমার সৃষ্টি তুমি নেবে, যখন তোমার ইচ্ছে হবে
এটায়তো তোমার খেলা, খেল কেবল সারা বেলা।
তোমার খেলা খেল তুমি, হে অয়োময় অন্তর্যামী।
তোমার জন্য খেলা এটা, কিন্তু কত কষ্ট সবার, জান সেটা!

মিটাতে না পেরে জমির টাকা, বুঝল জীবনটা তার পুরো ফাকা
না পেয়ে কোন কুল কিনারা, হয়ে পুরো দিশাহারা
নিজের জীবন নিজেই নিল, মেয়াদ তার শেষ হল।
হিসেব নিকেস কি যে হবে, তা জানে না কেউ এ ভবে

কিন্তু যারা রয়ে গেল, তাদের কি হবে বল?
বাচবে তারা কিসের বলে, কাটবে জীবন কিসের ছলে?
বৈঠা ছাড়া দাড় মাঝি তার জীবন তরী,
কেমনে তারা বাইবে সারা জীবন ভরি!
আছে কি তার উপায় কোন!
হে দয়াময়, তা কেবল তুমিই জান।

Category: Meaning of Life

Write a comment