যেদিকে যা কিছু দেখি, মেলে এ দুটি আঁখি
মরুভূমি, বনভূমি বা সমুদ্র, হোক তা বৃহৎ অথবা ক্ষুদ্র।
সবই এ ধরায়, শেষ হয় দিগন্ত রেখায়
যেখানে দেখা যায়, আকাশ মাটির মিলন হয়।

দেখারই মত মানুষের ভাবনা যত, তারো থাকে দিগন্ত সীমা।
সীমার ওপার যা কিছু আছে, সবে ভাবে সব তার মিছে
তাই আছে মানা, অতো শত জানা।

দেখা বা অদেখা বিধাতার এ ভুবনে, বা যা কিছু আসেনি এখনো জ্ঞানে
সবই তার সৃষ্টি বিধাতার, অসীম অন্তহীন।
যা কিছু প্রকৃতি, স্থির বা গতি, সবই তাঁর অধীন, দিগন্ত বিহীন।
শুধু মনে হয় শেষ, কিন্তু কখনো কিছুই হয় না নিঃশেষ।

যা কিছু হয় মনে, সে সবই কেবল ইন্দ্রিয় জ্ঞানে
দেখে যা মনে হয় দিগন্ত, প্রকৃতই সে সব অসীম অনন্ত।
সবই মরিচিকা কেবলই প্রহেলিকা সম
তা কেবল দেখার বা ভাবনার ভ্রম।

যা কিছু দিগন্ত সব তা, মানুষের ইন্দ্রিয়ের অসারতা
ইন্দ্রিয়ের কাজ মানে, সসীমের জ্ঞানে অসীমকে বাধা।
সব কিছুতেই দিগন্ত টানা, যা অন্য কিছু না, কেবল ধাঁধা
এতসব হায়, আর কিছু নয়, কেবলই মনুষ্য দুর্বলতা।

ভালবাসা সার্বজনীন সীমাহীন, বিধাতার অন্য নাম
যা শুধু দেয়া, না নিয়ে কোন দাম।
যে ভালবাসা দিগন্তে শেষ হয়, সেটা প্রকৃত ভালবাসা নয়।

যদি থাকে মনুষ্যত্বতার, সীমা পরিসীমার বাদ বিচার
তবে তা মনুষ্যত্বতা নয়, সেটা কোন গোত্র গোষ্ঠীর সাথে অন্বয়।

এ ধরণীকে ঘিরে যে বাতাস, যে সূর্য যে আকাশ
সব কিছু তার, সবার এ ধরার
স্থান কাল পাত্র না করে বিচার।

বিধাতার ভালবাসা বিধাতার দান
সবার জন্য তা সমান সমান।
সবাইকে তা করিছে সেবা, সম আদরে অকাতরে
তাইতো যাকিছু বিধাতার, সবই তার চিরন্তন চিরতরে।

সাদা কাল নির্বিশেষে, সব দেহে সব বেশে
বইছে ধুকধকিয়ে একই প্রাণ, সবাই সওয়ার একই স্বর্গীয় যান।

যদি কোন আস্তিকের হায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়
কোন নাস্তিক তা দেখে, যদি তার মুখে মুখ রেখে
নিজ অক্সিজেন ফুঁৎকারে ঢুকায়।
দেহ থেকে দেহ সে বাতাস গ্রহন করে
জাত পাট ধর্ম বর্ণ বাদ বিচারে।

কালোর রক্ত সাদা শরীরে বা সাদার রক্ত কালো কলেবরে
আস্তিকের অঙ্গ নাস্তিকের শরীরে
বিনা দ্বিধাই তা গ্রহন করে।

কাকের কয়লা-কাল শাবক, যত কুচ কুচে তা হোক
তা দেখেই মা কাকের হৃদয় জুড়ায়।
সাদা ধপধপে সাবক, কম বেশী সে যাই হোক
তাকে দেখে মা বকের আত্মা তৃপ্ত হয়।

সাদা আস্তিক, কালো নাস্তিক বা উল্টো তার
সে কেবলই ভাবনা তোমার।
তুমি যাকে ভাব নাস্তিক সেযে তোমাকে আস্তিক ভাবে
তেমন কখন হয় না এ ভবে।

আস্তিক নাস্তিক বাদি বা বিবাদী, সাদা কালো বা অজ্ঞেয়বাদী
যে কোন লোক, সে যে যাই হয় হোক।
একই বীজ হলে, সবার জমিতে একই ফসল ফলে
আস্তিক নাস্তিক যে যাই বা সাদা কালো ভেদে নয়।

মাথা নোয়াতে নিয়মে যার যার, ভাল লাগে সবার
কারো শান্তি আকারে, কারো বা নিরাকারে।
কারো তৃপ্তি গির্জার ঘন্টা গুনে, কারো বা ভেড়ার শিঙা শুনে
ঢাকের শব্দে কারো মন ভরে, কারো বা আজানের সুরে।

জন্ম থেকে যে যা দেখে, তাই শেখে
সে তাই ভালবেসে হৃদয়ে আঁকে।
শিক্ষা যদি দোষের হয়, তবে মানুষ তো দোষী নয়।

তবে কার দোষ এটা! চল ভেবে দেখি সেটা।
ভাবনায় ডুব দিয়ে শেষে, যদি কিছু না পেয়ে অবশেষে
যদি শেষ হয় হোক, তবু সে জীবন সার্থক।

উপরের জল নিচেই গড়াই
তা আস্তিক নাস্তিক সাদা কালো ভেদে নয়
সেত প্রকৃতির আইনে হয়।

যিনি বানিয়েছে সাদা কালো
তাঁরই হুকুমে উপরের জল নিচেই গড়াল।
যার হুকুমে চলেছে মেনে, লক্ষ তারকা নক্ষত্ররাজি
এ ধরার বুকে যা কিছু ঘটিছে চারদিকে, সবই তাঁর কারসাজি।

এত বৈপরীত্ব আর, মায়ায় ভরা দিগন্তহীন সৃষ্টি যার
তাঁকে বোঝা হায়! কি অত সহজ হয়!
চল সবে মিলে এক সাথে, জীবন করি পাত এ ধরাতে
তাঁরই খোজ করি, নিজ নিজ পথ ধরি।

Category: Meaning of Life

Write a comment