সবারই হাসি কান্নার জীবন, মনে হয় কারো বেশী কারো কম
কিন্তু বিধাতার অনন্য এ দান, সবার হাসি কান্না সমান সমান।

কারো কান্না সোনার গহনা, চকচকে নয় বলে
কারো বেলায়, কাদে সে ক্ষুধার জ্বালায়, গা কাপে, হাটে টলে টলে।
কেউ হাসে মন ভরে, সুরম্য প্রাসাদ ঘরে, সোনার পালঙ্কে শুয়ে
কেউ হাসে ঘুমিয়ে ফুটপাথে, পুলিশের গুতানি যে রাতে, পড়েনা গায়ে।

ফুটপাথে শুয়ে ক্লান্ত হয়ে, ঘুমে কাতর দেহ
নেই তাতে অন্য কোন মোহ।
শুধু আধা পেট ভরা, মশা ভনভন গাড়ির হর্ন, রাতভর সারা
তবুও অঘোরে ঘুমায় মানুষ, যেন পুরো বেহুঁশ।

যারা শুয়ে থাকে ফুটপাথে, কিছু ঘটেনা না যে রাতে
মানুষরুপি পশুর আক্রোশ বা প্রকৃতির কোন রোষ।
কোন কিছুই সে রাতে, পারে না তারে জাগাতে
এত সুখের ঘুম যার, প্রকৃতই কি ভাল ভাগ্য তার।

বিরানি মন্ডা মিঠায়, আরো কত কিছু হয়
তাইতো রোজ রোজ, হয় ভুরি ভোজ।
প্রকৃতই প্রতিদিন, একটু বেশী খাওয়া হয় রাত দিন।

মখমল বিছানা, নরম বালিশ খানা
প্রশস্ত ফ্লোর, সুরম্য অট্টালিকার ভিতর
যেন ফাঁকা মাঠ, পাতা খাটি চন্দন খাট
তবু ঘুম আসে না, পেট করে যন্ত্রণা, করে ভুটভাট।

চারদিক নিঝুম তবুও আসে না চোখে ঘুম, কেবল ছটফটায়
অশান্ত দেহ জেগে নেই কেহ, সারা রাত ধরে আড়ামোড়া করে
আহা কি দুর্ভাগা হায়, কত অসহায়!

অর্থ দিয়ে যায় কেনা, বাড়ী গাড়ী সোনা, কিছুতে নেই মানা
কিন্তু প্রশান্তির ঘুম পণ্য না, তাই তা বাজারে ওঠেনা।

কত টাকা কত সম্পত্তি আর যত আয়, যা সব অংকে মাপা যায়
সে সব এ ধরায়, কম বেশী হয় মানুষের কর্মফলে।
কর্ম হলেই হয়, ভাল খারাপের নেই কোন দায়
আয় হয় ছলে বলে কলে কৌশলে।

তাতে মন ভরে যায়, কিন্তু আত্মা ভরে চাপা কান্নায়
দেহ মন তৃপ্ত হয়, কিন্তু আত্মা প্রশান্তি হারায়।

বিধাতার এ সৃষ্টিতে, সবাই সমান তাঁর দৃষ্টিতে
মনুষ্য দৃষ্টি আর ভাবনাতে, সবই কম বা বেশী আছে তাতে।
এক হাটু জলে ডুব সাতার খেলে, হংস যে তৃপ্তি পায়
লোনা জল সমুদ্র অতল, তিমি মেতে খেলায়, তারও আনন্দ বেজায়।

মনুষ্য ইন্দ্রিয় জ্ঞান নদীতে জল কম সমুদ্রে অতল
ভাবে সবে একচোখা বিধাতা, তাই সবখানে অসমতা।
নদী কেটে বড় করে সমুদ্রের জল নদীতে ভরে করে তার অংশ
করিতে সমতা ভাঙ্গে ভারসাম্যতা ডেকে আনে ধ্বংস।

ঢোকে লোনা জল নদী আর মাঠে, সমুদ্র পৃষ্ট উঁচুতে ওঠে
লোনা জলে হংস হয় নির্বংশ, আর তিমি মরে দেহ ঠেকে চরে
করিতে সমতা করেনি যা বিধাতা, মানুষ করে প্রকৃতি ধ্বংস।
তিমি কিংবা হংস, খুশী তারা নিয়ে যার যার অংশ।

এত সব করে, ন্যায় অন্যায় বিনা বিচারে
বিধাতার এ ধরায়, পার হয়ে চড়াই উতরাই
সবাই জীবনের অর্থ খুঁজে বেড়ায়।

জীবনের অর্থ নেয়াতে নয়, দেয়াতে নিশ্চয়।
কারো অভাবে এ ভবে, তোমাকে কিছু দিতে হবে, সে কথা নয়।
কারো দুঃখে দুঃখ পেলে, তাতে যদি তোমার হৃদয় গলে
দেয়ার সাধ্য নেই বলে, যদি ভরে যায় দুচোখ জলে
তবে নেই কোন ভয়, তোমার ব্যাথিত হৃদয় স্পর্শ করবে খোদার
নিশ্চিত জেনো, তিনি দেবেন উপায়ে যেকোনো, দেয়া হবে তোমার।
তিনিই মালিক তিনিই দাতা, আর আছে শুধু তাঁরই ক্ষমতা দেয়ার।

আত্মা তাঁরই সত্তা, ধুক ধুক করে, সবার শরীরে
আত্মা কাঁদলে কাদেন তিনি, হাসলে হাসে তিনিই অন্তর্যামী
তোমার মধ্যে প্রকাশ তাঁহার, তুমিই এ ধরার প্রতিনিধি বিধাতার।

কারো দুঃখে তোমার, জ্বলে যদি অন্তর, তার তরে
আর কারো সুখ দেখে, যদি তা থেকে, তোমার হৃদয় ভরে
তাহলে জানবে এ ভবে, সে জীবন অর্থবহ হবে।

Category: Meaning of Life

Write a comment