অতৃপ্ততা নিয়েই জন্ম জীবনের। আর তাই মনটাকে ভুলিয়ে রাখার জন্য সব সময় সামনে ছুটে চলাকে প্রতিষেধক হিসেবে ও বেছে নিয়েছে। এ মহৌষধের সন্ধান জীবন বাল্যকালেই পেয়ে সে ভাবেই জীবনকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।
মনের সে তাড়নায় জীবন ছুটে ছুটে বেড়িয়েছে দেশ দেশান্তরে পাহাড়ে সমুদ্রে। পাওয়ার আনন্দে নেশাগ্রস্ত জীবন কোন কিছুই নাগালের বাইরে বলে সব শব্দই তার অভিধাণ থেকে যেন মুছে ফেলেছে। আনন্দেই কেটেছে সময়গুলো। পাওয়ার আনন্দ, সমাজের স্বীকৃতি আর আর্থিক উন্নতির আস্বাদ।
মনের মত সংসার গড়েছে জীবন, বাড়ী গাড়ী প্রতিপত্তি সবই হয়েছে ওর। চলার পথে পিছন ফিরে তাকানোর কোন প্রয়োজন হয়নি এ যাবত। অগ্রগতি মানে সমানে চলা, অংকের হিসেবে প্রবৃদ্ধি হলেই সাফল্য।
সামনে চলার প্রক্রিয়াই জীবন বাবা মা, ভাই বোন, আত্মীয় পরিজন, কৃষ্টি সংস্কৃতি এমনকি দেশের ভৌগলিক সীমা ছাড়িয়ে সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ভিন দেশে বসতি গড়ে সেখানকার সব কিছুর সাথে একাত্ম হয়ে তাদেরই একজন হয়ে জীবন কাটিয়ে দিয়েছে এতকাল।

উচু নিচু পাহাড়ী এক এলাকায় প্রায় দশ একর জমির উপর ওদের বাংলো বাড়ী। সেখানে বাগানে চেরি ব্লুসমস, টিউলিপ, ড্যাফোডিল আর রোডোডে্নড্রনের সমারোহ তেমনি পাহাড়েই অন্য ঢালে ম্যাগনোলিয়া, রেডবাড, পিয়ার ইত্যাদি ফুলে ফুলে ছেয়ে যাওয়া গাছ। আর বিরাট অংশ জুড়ে ওয়েস্টার্ন হেমলক, রেড এ্যাল্ডার, ডগলাস ফির ইত্যাদি গাছের সমারোহ। বলা চলে প্রকৃতির রাজ্যে ওদের বসবাস।
মনের কোন এক খেয়ালে জীবন বেশ কয়েক বছর যাবত চেষ্টা করেছে দেশ থেকে নিয়ে আসা কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা লাগিয়ে তাতে ফুল ফুটানোর জন্য। ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়েছে চারা দুটোর পিছনে কিন্তু এই হিমবাহ প্রধান জায়গায় তা কিছুতেই সফল হয়নি।

-ড্যাডি, চল তো দেখি তোমার কৃষ্ণচূড়া ফুল গাছ দুটোর কি অবস্থা?
চেলছির গ্রাডুয়েসান সেরিমনি শেষ করে বাড়ীর সামনে গাড়ী থেকে নামতেই তৃপ্তিতে ভরপুর ওর বিশ বছরের মেয়ের কথাই জীবন ইতস্তত বোধ করতে লাগলো। কারণ প্রতিদিনের মত আজ সকালেও সে দেখেছে কয়েক বছর ধরে অবিরাম যত্ন নেয়া নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের গাছ দুটোর মরণাপন্ন দশা।
চেলছি বাবাকে এক রকম জোর করেই নিয়ে গেল গাছ দুটো দেখতে।
নিজের মত করে তৈরী একটা গ্রিন হাউজের মধ্যে চারা দুটো লাগানো। কৃশাঙ্গ চারা দুটো কোন রকমে নিজেদের জীবনটা ধরে রেখে বেচে আছে।ড্যাডি, গাছ দুটো যদি এদের নিজ দেশের আবহাওয়াই থাকতো তাহলে এতদিনে নিশ্চয় বড় হয়ে ফুলে ফুলে ভরে যেত। আমি গুগলে ছবি দেখেছি ফুলে ফুলে ভরে থাকলে কৃষ্ণচূড়াকে কি অপরুপ দেখায়। ইস, কেন যে তুমি গাছ দুটোকে এখানে আনতে গেলে!
মেয়ের এই হালকা মন্তব্য জীবনকে কেমন যেন হতচকিত করে দিল।
ওরা কথা বলতে বলতে কখন মেরি, ওর স্ত্রী পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে ওরা কেউ খেয়াল করিনি। গ্রাজুয়েসান সেরিমনি শেষে মেরি তার অফিসে ছোট একটু কাজ সেরে ফিরতে একটু দেরী হয়েছে।
-তুমি না হয় গাছ দুটোকে ওদের নিজ স্থানে নিজ মাটি আর আবহাওয়াই ফিরিয়ে দিয়ে এস। এখানে ওরা ভাল নেই।
মেরির সাথে ভালবেসে ওদের বিয়ে আর সে সুত্রেই জীবনের এদেশে বসতি গড়া। দুজনই এনভাইরমেন্টাল সায়েন্সে পিএইচডি করার সময় প্রেম এবং তার পর বিয়ে। জীবন যে প্রতিদিন সকালে গাছটাকে যত্ন নিয়ে তারপর কাজে যায় মেরি সেটা জানে। মেরিও অনেকদিন স্বামীর সাথে গাছটার যত্ন নেয়াতে সাহায্য করার সময় এদেরকে এই আবহাওয়াই বাচানোর ব্যাপারে অনেক আলোচনা করেছে এবং উৎসাহও যুগিয়েছে।
মেরির মন্তব্যে ওরা দুজনই পিছন ফিরে তাকাল।
কেউ কোন মন্তব্য করলো না।
সে দিনই স্ত্রী আর মেয়ের সাথে আলোচনা করে গাছের চারা দুটো নিয়ে দেশের মাটিতে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিল জীবন।
আর সে উদ্দেশেই এত বছর পর দেশে ফিরেছে জীবন।

প্রায় ত্রিশ একর জায়গার নিয়ে ওদের পৈত্রিক ভিটে বাড়ীটা। পুরনো জমিদার বাড়ী। কিন্তু বিগত ত্রিশ বছরে ওর দেখা সে সব পরিবর্তন হয়ে অচেনা হয়ে গিয়েছে। তেমন কেউ থাকেনা এখানে। সবাই জীবিকার তাড়নায় বাইরে বাইরে।
বাবা মারা গিয়েছেন তাও প্রায় পচিশ বছর হল। বাবা মারা যাওয়ার সময় জীবন ওর পড়াশোনার শেষ পর্যায়ে। মৃত্যুর পূর্বে বাবার সাথে টেলিফোনে কথা হয়েছিল। বাবাই ওকে সে সময় তাড়াহুড়া করে আসতে নিষেধ করেছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর নিজের মধ্যে কেমন যেন একটা অপরাধ বোধের জন্ম নেয়াই এত বছর ধরে জীবন বাইরে।
দেশে সবকিছু একদম অচেনা হয়ে গিয়েছে। ওর শৈশব স্মৃতিগুলো একদম খুজে পেল না।
কিছুই চেনার মত নেই। বাড়ীর সন্মুখে সান বাঁধানো বিশাল দীঘির ঘাটটাই কেবল চেনা লাগলো ওর। এখানটা তেমন পরিবর্তন হয়নি। রক্ষনাবেক্ষন আর ব্যবহারের অভাবে ঘাটের ইটের গাঁথুনির ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন জংলি গাছ গজিয়েছে আর পুরো সিড়ির উপর শ্যাওলা জমেছে। ঘাঁটের উপর দাঁড়িয়ে থাকা কদম ফুলের গাছটা অনেক বুড়ো হয়ে গেছে। গাছটা ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। সুন্দর একটা গন্ধে ভরে আছে চারদিক।
প্যাকেট করা কৃষ্ণচূড়া গাছ দুটো শিড়িতে নামিয়ে রেখে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে জীবন তার ঝাপসা হওয়া স্মৃতির পাতা উলটিয়ে দেখায় নিমগ্ন।
ঘাটটা জীবনের ছোট বেলার সাথী। কখনো ভাল না লাগলে বা কোন কারণে মন খারাপ থাকলে এখানে এসে বসতো জীবন।
-কি খোকা, সেই তুমি এলে।
চমকে উঠলো জীবন, দরদ ভরা সে কণ্ঠ শুনে।

বাড়ীর পুরনো চাকর গদাধর, ওরা বংশ পরস্পর এই সম্পত্তি দেখাশোনা করে আসছে। ওর পূর্ব পুরুষেরা মুলত আসামের কোন স্থানের মানুষ। জীবনের পরদাদা সে সময় গদাধরের পরদাদাকে শিশু অবস্থাই কোথা থেকে যেন এনেছিলেন। তারপর থেকেই বংশ পরস্পর ওরা এখানে। এই এস্টেটের এক কোনে ওদের জন্য বাড়ী করে দেয়া আছে।
বেশ বয়েস হয়েছে গদাধরের দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়। গদাধর জীবনের থেকে বছর দশেকের বড় হবে। ছোট বেলাই এক সাথে অনেক খেলা ধুলা করেছে, ওর কোলে কাধেও উঠেছে জীবন। কিন্তু সে বিবেচনায় গদাধরের শরীরের বয়েস মনে হল কম করে হলেও দশ বছর বেড়ে গেছে।
ছোট বয়েসেই মাকে হারিয়ে জীবন সৎ মায়ের সংসারে মানুষ। সৎ মায়ের ব্যবহারে মনে কষ্ট লাগলে জীবন এই নির্জন ঘাটে এসে বসতো। গদাধর বোধহয় বিষয়টা বুঝত, তাই তখন সেও নীরবে এসে বসতো জীবনের পাশে। বাবা মারা যাওয়ার কয়েক বছর আগে জীবনের সৎ মা মারা গিয়েছিলেন।

ওটার ভিতর কি খোকা? সিড়ির উপর রাখা প্যাকেট দেখিয়ে গদাধর জানতে চাইলো।
-এখানে কৃষ্ণচূড়ার দুটো চারা আছে এখনি লাগাতে হবে।
গদাধর প্যাকেটে মোড়ানো গাছটা দুটো বের করে দেখে চিনলো।
-এ কি অবস্থা গাছ দুটোর! অপুষ্টিতে মর মর অবস্থা!
-চল চারা দুটো এই দীঘির পাড়ে ঘাটের ধার ঘেঁসে বপন করি।
কথা না বাড়িয়ে জীবন ওকে গাছটি লাগানোর ব্যাবস্থা করার তাগিদ দিল।
-ভালই হল খোকা, এখনো গাছ লাগানোর সময় আছে, দেখ, এই মাটিতে গাছ দুটো তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠে বছর গড়াতেই ফুলে ফুলে ভরে যাবে। কথাটা বলে গদাধর ব্যস্ত ভাবে কোদাল আনতে ভিতরে চলে গেল।
দুজন মিলে গাছ দুটি দীঘির পাড়ে লাগিয়ে খাচা দিয়ে ঘিরে দিল।
-আমি ঘর দোর সব গুছিয়ে রেখেছি, আপনি ঘরে আসেন বাবা।

গদাধরের বউরের ডাকে জীবন তাকাল সেদিকে। ওকে আগে কখনো দেখেনি। গদাধরই পরিচয় করিয়ে দিল।
গদাধরের দুটো ছেলে। ওরা বড় হয়েছে। লেখা পড়া শিখে অনাথ আশ্রমের ছেলেমেয়েদের ক্লাস নেয়। সারাদিন সে কাজেই ব্যস্ত থাকে ওরা। গদাধর আর ওর স্ত্রী দুজনে সারাদিন এ বাড়ীর সব কিছু আগলে রাখে।
মহিলা উপজাতি গোষ্ঠীর মানুষ সেটা ওর নাকে মুখে বোঝা যায়। কিন্তু ওর ভাষা আর উচ্চরন শুনে বোঝা যায় সে শিক্ষিতা।
-তোমার বাবা মৃত্যুর বছর দুয়েক আগে একটা অনাথ আশ্রম বানিয়েছিলেন এই ভিটের পূর্ব দক্ষিণ কোনাই, যেখানে এখন একশ জনের মত অনাথ শিশু বসবাস করে। ওটার মহিলা সেকসানের হোস্টেলটা নয়নসোনা অর্থাৎ আমার স্ত্রী দেখাশোনা করে আর ওদের স্কুলে বাংলা পড়ায়।

এর পর বছর গড়িয়ে গেল। জীবন প্রতিদিনই ওর স্ত্রী আর মেয়ের সাথে টেলিফোনে কথা বলে এখানকার সব কিছু ওদেরকে জানিয়ে রাখে। ওরা বিশেষ করে কৃষ্ণচূড়া গাছ দুটির খবর নেয়।
ইতিমধ্যে অনাথ আশ্রম আর স্কুলের কাজে জীবন নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করলো। জীবনের ছোঁয়াতে দেখতে দেখতে ভিটে বাড়ীর চেহারাটা বদলে সব জায়গাতেই যেন নতুন করে জীবন সঞ্চারিত হয়ে উঠলো।
কৃষ্ণচূড়া গাছ দুটি বছর না গড়াতেই সবুজ পাতা আর ডাল পাতা ছেড়ে বেশ লম্বা হয়ে উঠলো। ওটার ছবি দেখে জীবনের স্ত্রী আর মেয়ে যার পর নেই উৎফুল্ল হয়ে উঠলো। পরের বসন্তেই কৃষ্ণচূড়ার ডালগুলো ফুলে ফুলে রক্তিম হয়ে গেল।
ছবিতে তা দেখে মেরি আর চেলছি উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে -আমরা যত তাড়াতাড়ি পারি আসছি বলে জানালো। খুশী হল জীবন, তবে ওরা যে এত তাড়াতাড়ি চলে আসবে জীবন সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। মেরি গদাধরের সাথে যোগাযোগ করে ওদের আসার ব্যাপারটা জীবনের কাছে গোপন রাখল ওকে চমকে দেবে বলে।
সেবার এপ্রিলের প্রথম থেকেই বেশ বর্ষা হল। বর্ষাই পানিতে গাছপালা গুলো ধুয়ে গাড় সবুজ হয়ে উঠলো।
মেরির অনুরোধে গদাধর ওদেরকে এয়ারপোর্ট থেকে আনার পর মেরি আর চেলছিকে সরাসরি লেকের ঘাটে নিয়ে গেল।
হিম শীতল আবহাওয়াই বছরের পর বছর ধরে যে গাছ দুটোকে বাচিয়ে রাখার জন্য জীবন কত চেষ্টা করেছে, আর এই বছর দুয়ের মধ্যে সেই মৃতপ্রায় গাছ দুটো এত বড় হয়ে উঠে শাখাই শাখাই এত ফুল ফুটেছে যে মনে হচ্ছে স্বর্গীয় আলোর বিচ্ছুরণ ঘটছে। নিজ মাটি আর জলবায়ুতে পুষ্ট হওয়া কৃষ্ণচূড়া গাছ দুটো যেন দিব্য আবহের সৃষ্টি করেছে।

মুগ্ধ হয়ে মেরি আর চেলছি গাছ দুটোর গায়ে হাত ছুঁয়ে দেখতে লাগলো যেন আপন কাউকে অনুভব করছে। কৃষ্ণচূড়ার তলাই পড়া ফুল গুলো কুড়িয়ে আবেগে সেগুলি নিজেদের গায়ে মাখতে লাগলো ওরা। হিমবাহের দেশে হিমশীতল আবহাওয়াই মৃতপ্রায় কৃষ্ণচূড়া এখন ফুলে ফুলে শোভিত হয়ে মৃদু মন্দ বাতাসে দুলতে দেখে মা মেয়ের চোখ জলে ভরে গেল। গাছ দুটোও যেন অতি পরিচিত জনদের দেখে পুষ্প পল্লবিত শাখা দুলিয়ে দুলিয়ে তাদের অতি পরিচিত জনদের স্বাগত জানাতে লাগলো।
গদাধরের ডাকে সম্বিত ফিরে পেয়ে ওরা গেল জীবনকে দেখতে।
উপরে টিনের ছাউনি দেয়া ইটের গাথুনির স্কুলটা। তারই একটা ক্লাস রুমে দেয়ালের সাথে আটকানো একটা বড় ব্লাকবোর্ডে দেশের ম্যাপ আঁকতে নিবিষ্ট এনভাইরমেন্টাল সাইয়েন্সে পিএইচডি ধারী প্রফেসর, জীবন। সামনে বসা পঞ্চাশ জনের মত কচি বয়সের ছাত্র ছাত্রী মন্ত্রমুগ্ধের মত তা দেখে নিজেদের খাতাই আঁকতে ব্যস্ত।
মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে চেয়ে রইলো মেরি আর চেলচিও।
চারদিক কেবল নিস্তব্দতার রাজত্ব। শুধুমাত্র পাখীর কলকুঞ্জন আর গাড় সুবুজ বৃক্ষের শাখাই শাখাই বাতাস শিস দিয়ে দিয়ে নিষ্কলুষ প্রক্রিতির গন্ধ ছড়াচ্ছে। এহেন বাতাবরণের মাঝে জীবনকে ওভাবে নিমগ্ন দেখে মেরি আর চেলচির মনে হল যে, জীবনের সর্বাঙ্গ থেকে যেন একটা তৃপ্তির জ্যোতি বিচ্ছুরিত হচ্ছে। কাজ পাগল মানুষ জীবন, কিন্তু ওর এ রুপ আগে কখনো প্রত্যক্ষ করিনি মেরি বা চেলছি কেউই।
আপন ভুবনে তৃপ্ত চিত্তে বিমূর্ত এক অবয়ব।

বিধাতা বিজ্ঞানময়, রাখে খবর, তাঁর সব সৃষ্টির নিশ্চয়।
বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জুড়ে, সবার মান সমান সমান, তাঁর এ বিশ্ব নীড়ে
বিছিয়েছেন নিজ করে, সবার তরে, তাঁর মায়ার আঁচল।
হোক বেশী কম, না শীত না গরম, হিমশীতল বা উষ্ণাঁচল।

মেরুর জীবন শৈত্যে বিকাশ, মরুর তাপে হয় তা নিকাশ।
তাপ-মিতাশী জীবন হলে,
না মরে কেবল বাচতে পারে, হিম বা উষ্ণাঁচলে।

Category: Meaning of Life

Write a comment