তৃষিত মন ছুটেছে আজীবন, বালিয়াড়ির মাঝে সকাল সন্ধ্যা সাঁঝে
চারদিক শুধু বালু ধুধু, কোথা নেই কিছু, শূন্যতা শুধু।
সারা দিন ভরে দেখা যায় দূরে, জল টলমল করে
যাও যত কাছে, দেখা যায় আছে, কেবলি সরে যায় দূরে দূরে।

কৃষ্ণ কালো রাতের আঁধার, সব গিলে ঢেকে ফেলে চারধার
সব ঝোপঝাড় বালি জল, রেখেছিল যা পথিককে করে মাতাল
সব মৃগতৃষ্ণা মায়া ভরপুর, উবে যায় যেন উদ্বায়ী কর্পূর।

পথিকের মন ভ্রমে ভরে, হারাল কি সব চিরতরে? তাহলে!
আদেউ জানে কি কেউ? ছিল কি সেগুলো কোন কালে!

দিনের আলোতে সব উজ্জ্বল, দেখা যাই টলমলে জল
মনে হয় বোধহয়, এ বুঝি ফল, চেষ্টার ফসল।
চকচকে আলোর নিচে, সব দেখা যায় মনে হয় সব আছে
আঁধার নামে যখন, সন্ধেহে ভরে মন, মনে হয় সব মিছে।

পথিক ছোটে সকাল সন্ধ্যে, যেন সামনে মুলো বাধা, পিছনে হাটে গাধা, তার গন্ধে
আজ পাব কাল পাব বলে, কত রাত দিন গেল চলে।
নতুন সূর্য নতুন ঊষা যে আশা জাগায় মনে
রাতের আঁধার সব ঢেকে দেয় তার, আঘাত পায় প্রতিজনে।

সারা দিন কাটে, ভেবে এই পাব বটে, সবই আছে নাগালের কাছে
কিন্তু যেই হয় আঁধার, যেন রাজ্য গোলকধাঁধার, করে দেয় সব মিছে।

কত আশা কত কথা, আর শেষে নিশ্চিত না পাওয়ার ব্যাথা
এই অজানা অচেনা ধরায়, আমরা সবাই, তৃষিত পথিক
এসব কিছু না, মায়াই অন্ধ মনের ভাবনা, এটাই জীবন সঠিক।

পাব পাব বলে, জীবন কাটে ডুবে থেকে ভুলে।
তারপর শেষে ভিখারির বেশে, ফেলে সব খেলা, ডুবে যায় বেলা
কাউকে কিছু না বলে।

রাতের আঁধার, দেখা যায় না যখন কিছু আর
মনে হয় ভয়, যদি নতুন সূর্য না ওঠে আবার,
যদি কোনদিন আর না কাটে আঁধার!
না পোহায় রাত্রি কালো, না যদি দেখা যাই আর আলো!
তবে কি হবে!

না পাওয়ার বেদনা, রেখে সব দেনা, সব শেষ হয়ে যাবে!
যে টুকু পেলাম সব তা হারালাম, এ ভবে!

অবশেষে জীবন সায়াহ্নে এসে, মরিচিকা আর যায় না দেখা
এত কোলাহল আকাঙ্ক্ষা অতল, সবাই হয়ে যাই একা একা।
অতৃপ্ত মন না পাওয়া ধন, সব শুধু থাকে মনের পর্দায়
মনে হয়, কিছু নাই, যেন কেউ নাই কোথায়।

তবু মন চায় একটু হাত বাড়ায়, দেখি ছুয়ে আছে কিনা গেছে
কিন্তু শরীর শোনে না কথা আর, পড়ে রয় নিশ্চল নিথর।
স্বপ্ন ভেঙ্গে শেষে, বিনা কোন বেশে, ছেড়ে সব এ ধরায়
উড়ে যায় পথিক, গন্তব্যে সঠিক, বিনা পাখায়।

যত স্বপ্ন দেখা, সব পড়ে থাকে ফাঁকা
যেন দিনের শেষে, ছোট্ট শিশু হেসে
খেলা ফেলে গেল চলে, ঘুমোতে স্বপ্নের দেশে।
খেলার ছলে মিছে, গড়েছিল যা পড়ে রল সব তা পিছে।

দেখ ভেবে মন, ভাব যা অমুল্য রতন, সব তা শিশুর খেলার মতন।
যাকিছু গড়েছ এ ধরায়, কত মমতায়
এ ভবে যা কিছু যত, মাটি হবে সব, তোমার দেহের মত।

জীবন চলা এ ধরায়, মরিচিকার পিছনে ছুটা ছাড়া আর কিছু নয়
যা কিছু তুমি নেবে নিজের ভেবে, এ ধরায়
সব পড়ে রবে মাটির এ ভবে, হোক তা ন্যায় বা অন্যায়
খাটি বা অখাটি, হয়ে যাবে একদিন সব মাটি।

যা কিছু দেবে নিঃস্বার্থ ভাবে, সবটুকু তার শান্তি দেবে আত্মার
সে সব অবিনশ্বর অক্ষয়, থাকবে তোমার আত্মার মণিকোঠাই।
অনন্ত আত্মা, ছোট্ট বিধাতা, বাস করে তোমার জীর্ণ মাটির ঘরে
চলে যাবে শেষে ঊর্ধ্বাকাশে, তাঁর আদি নিবাসে।

প্রশান্ত আত্মা এসে, ছিল মাটির আবাসে, হয়ে দুদিনের অতিথি
কবে যাবে ফিরে তাঁর নিজ ঘরে, সারাক্ষন করেছে সে আকুতি।
না বুঝে সে কথা, টানাটানি করেছো তাঁকে অযথা।

ভেবে দেখ মন, এইতো মিছে জীবন
এ ভাবেই কাটে সময়, এসবের কি অর্থ হয়!
একদিন হবে সব সাঙ্গ, হবে জীবনের সব মোহ ভঙ্গ।

মেরু থেকে মেরু, পাহাড় সমুদ্র মরু কিম্বা তরু
করেছি কত মাতামাতি, ছুটাছুটি সারা দিবারাতি।
করেছি ভুল সারা জীবন, আত্মাকে ভেবেছি মন!

বুঝিনি আমি জীবনে, ‘মন ভরে ভোগে’ কারণে অকারণে
যত দাও তাকে স্বর্গ মর্ত, সময়ের সাথে সে হয় অতৃপ্ত।
কিন্তু ‘ত্যাগ আত্মার খাবার’, দেয়াতে থাকে সে প্রশান্ত
সে সব কালজয়ী অনুভব, যা স্থায়ী অনন্ত।

Category: Meaning of Life

Write a comment